গত মাসের চেয়ে আক্রান্ত কমেছে শতকরা ২০ ভাগ
যশোর জেলায় কমেছে করোনা রোগী ও সনাক্তের সংখ্যা

এস হাসমী সাজু
যশোর জেলায় কমেছে করোনা রোগী ও সনাক্তের সংখ্যা। গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের সাথে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জেলায় সনাক্তের সংখ্যা ৫ থেকে ২০ ভাগ কমে এসেছে বলে তথ্য মিলেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১০ সেপ্টেম্বর ১৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ (শতকরা সাড়ে ২১ ভাগ) হয়। সেখানে এক মাস আগে অর্থাৎ ১০ আগস্ট ১৮৫ জনের মধ্যে ৫০ জন অর্থাৎ ২৭ ভাগ রোগী সনাক্ত হয়। চলতি মাসের ১১ তারিখে ১১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জন (শতকরা ১৮ ভাগ) সনাক্ত হয়। আর গত মাসের ১১ তারিখে ৩৫ দশমিক ৫৬ ভাগ (১৯৪ জনের ৬৯ জন) সনাক্ত হয়। চলতি মাসের ১২ তারিখে ১৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জন (শতকরা ১৫ দশমিক ২৪ ভাগ) সনাক্ত হয়। সেখানে গেল মাসের ১২ তারিখে সনাক্ত হয়েছিল ১৪৭ জনের মধ্যে ৫৯ জন। সনাক্তের হার ছিল ৪০ দশমিক ১৩। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এভাবে সনাক্তের সংখ্যা কমছে। চলতি মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা করা নমুনার শতকরা ১৬ দশমিক ৩৬ ভাগ, ১৫ সেপ্টেম্বর শতকরা ৬ ভাগ, ১৬ সেপ্টেম্বর শতকরা ২৩ দশমিক ৫২ ভাগ, ১৭ সেপ্টেম্বর জেলায় ১৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪ জন অর্থাৎ শতকরা ১৩ দশমিক ৪০ ভাগ ও ১৮ সেপ্টেম্বর ৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জনের অর্থাৎ শতকরা ১৪ দশমিক ৬০ ভাগ রোগী সনাক্ত হয়। গেল ২৪ ঘণ্টায় জেলায় যে ১৩ জন সনাক্ত হয়েছে এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯ জন এবং অভয়নগর উপজেলায় চারজন রয়েছে। শুক্রবার সকালে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। তবে জেলা সিভিল সার্জনের দাবি জেলায় অসুস্থ হওয়ার মাত্রা কমে এসেছে। ফলে নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে।
সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, যশোরে করোনা সংক্রমণ অনেকটা কমে আসতে শুরু করেছে। ফলে আক্রান্ত কমছে। তিনি আরো বলেন, যখন করোনায় আক্রান্ত রোগীরা টাকা দিয়ে পরীক্ষা করছিলেন তখন গড়ে প্রতিদিন ২/৩ শ’ নমুনা জেলায় সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পরীক্ষা ফি কমে আসলেও গড়ে নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ জনের। শুধুমাত্র শুক্রবার জেলায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ছয়জনের। নমুনা সংগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে সনাক্তও কমে আসছে।
সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, বর্তমানে যশোর জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ১৩০ জন। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ১০৩ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসাধীন আছেন ১৪ জন। বাকী ১৩ জন উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে অবস্থান করছেন। আক্রান্তদেন মধ্যে সদর উপজেলাতে আছেন ৬৯১ জন। যা জেলার মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশী। এছাড়া ঝিকরগাছা উপজেলাতে ১৭৬ জন, কেশবপুর উপজেলাতে একশত একজন, অভয়নগর উপজেলাতে ৬৯ জন, শার্শা উপজেলাতে ৩০ জন, মণিরামপুর উপজেলাতে ২৭ জন, চৌগাছা উপজেলাতে ২২ জন এবং সবচেয়ে কম করোনা রোগী রয়েছে বাঘারপাড়া উপজেলায় ১৪ জন। সবমিলিয়ে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৭২৪ জন। এ সময় সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৫৪২ জন এবং এই রোগে মৃত্যু হয়েছে ৪৪ জনের। এছাড়া যশোরের বাসিন্দা কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হয়ে খুলনা ও ঢাকায় মারা গেছেন আট জন।
তিনি আরও জানান, যশোর সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশী রোগী যেমন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তেমনি সুস্থও হয়েছেন। সদরে শুক্রবার পর্যন্ত এক হাজার ৩৫৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ সময় সদর উপজেলায় মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। এছাড়া অভয়নগর উপজেলায় সুস্থ হয়েছে ৩৮১ জন ও মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। কেশবপুর উপজেলায় সুস্থ হয়েছে ১৬৭ জন ও মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। শার্শা উপজেলায় সনাক্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ২২৬ জন ও মারা গেছেন দুই জন। চৌগাছা উপজেলায় সুস্থ হয়েছে ১২৪ জন ও মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। ঝিকরগাছা উপজেলায় সুস্থ হয়েছে ৮১ জন; তবে কোন মৃত্যু নেই। মণিরামপুরে সুস্থ হয়েছে ১৩০ জন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় কোন মৃত্যু ঘটেনি। এছাড়া বাঘারপাড়া উপজেলায় ৭৯ জন সুস্থ হয়েছে এবং মারা গেছেন একজন।
অপরদিকে, যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম জানান, গেল ২৪ ঘণ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারের ল্যাবে যশোর জেলার ৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জনের, মাগুরা জেলার ২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে তিনজনের এবং নড়াইল জেলার ৩২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পাঁচজনের নমুনাতে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ল্যাবে এদিন মোট ১৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১২২ জনের নেগেটিভ ফল পাওয়া যায়।

শেয়ার