যশোরে প্রশাসনের মনিটরিংয়েও থেমে নেই দাম বৃদ্ধি
ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁঝ

জাহিদ হাসান
দিনকে দিন যশোরে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। টিসিবি’র স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি, নিয়মিত বাজারে অভিযান, পাশাপাশি পেঁয়াজ কারসাজি চক্রকে খুঁজে পেতে জেলা প্রশাসনের মনিটরিং টিম তৎপরতার পরও কমছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় এ দ্রব্যের দাম। প্রশাসন দাম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পেঁয়াজের ঝাঁঝ বেড়েই চলেছে। পাইকারি-খুচরা সব জায়গায় পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গতকালও সবধরনের পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫ টাকা। মূলত ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়িয়েছেন পেঁয়াজের পাইকারী ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, যশোরের বাজারে দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে এখনো ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের পর্যাপ্ত যোগান থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম কমছে না। একশ্রেণির অসাধু আড়তদার ভারতীয় পেঁয়াজ মজুদ করার ফলে সেগুলো পচে যাওয়ার মতো হলেও তারা দাম কমাচ্ছেন না। এর ফলে খুচরা বাজারে ৪০ টাকার পেঁয়াজ দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার যশোরের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথাবলে জানা গেছে, গত সোমবার ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার সংবাদে অস্থির হয়ে উঠে সারাদেশের মতো যশোরের পেঁয়াজের বাজার। এক রাতের ব্যবধানে সবধরনের পেঁয়াজের দামই দ্বিগুণ বেড়ে যায়। বন্ধ ঘোষণার পরের দিনেই দেশীয় ৫৫ টাকার পেঁয়াজ ৮০ টাকা বিক্রি হয়। আর ৪২ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার সঙ্গেসঙ্গে নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে যশোরের আট উপজেলায় ১৫টির মতো মনিটারিং টিম কাজ করতে শুরু করেছে। নিয়মিত মনিটরিং ও ব্যবসায়ীদের খুচরা মূল্যের সাথে পাইকারি ক্রয়ের রশিদও দেখছে প্রশাসনের টিম। এরপরেও যশোরের বাজারে কমছে না পেঁয়াজের দাম। বৃহস্পতিবার যশোরের বড়বাজারে সবধরনের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজ ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৮৫ টাকা আর ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ৭০ টাকা।
বৃহস্পতিবার বিকালে বড়বাজারে বাজার করতে আসা সার্কিটহাউজ এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, সোমবারও পেঁয়াজের দাম কম ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার অজুহাতে হঠাৎ করেই ব্যবসায়ীরা একযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ২-৩ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম হয়েছে দুই থেকে তিনগুণ। আর এ কারণে পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নি¤œ ও মধ্যবিত্তদের। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকার পরও তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি জেলা প্রশাসনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পেঁয়াজের এই ঊর্ধ্বমুখী দাম কমাতে বাজার- মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানান।
শহরের বড়বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম জানান, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির খবরে অনেক ক্রেতাই বেশি করে পেঁয়াজ ক্রয় করে মজুত করে রাখছে। তাছাড়া আমরা পাইকারী যা ক্রয় করছি; সেই দামে খুচরা বিক্রি করছি। পেঁয়াজ আমদানিকারকরাই দাম বাড়িয়েছে দাবি এই ব্যবসায়ীর। তিনি আরো বলেন, দ্রুত পাকিস্তান, তুরস্ক, চীনের পেঁয়াজ আমদানি করলে বাজার স্বাভাবিক হবে।
জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যাতে ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ টাকা কেজি দরে টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি করছে। আশা করি দ্রুত পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হবে।

শেয়ার