বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ৩ কোটি

 দেশে আক্রান্ত ৩ লাখ ৪৪ হাজার, মৃত ৪ হাজার ৮৫৯

সমাজের কথা ডেস্ক॥ নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এ এই প্রতিবেদন লেখা অবধি বিশ্বব্যাপী মোট আক্রান্ত হয়েছেন তিন কোটি ৮৫ হাজার ৯১৪ জন। সূত্র – ওয়ার্ল্ডোমিটার্স ডট ইনফো।
এদিকে, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫ দেশ ও অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৫ জন মারা গেছেন। একই সময়ে, বিশ্বব্যাপী দুই কোটি ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৫ জন চিকিৎসা নিয়ে করোনামুক্ত হয়ে নিয়মিত জীবনে ফিরে গেছেন।
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনায় আক্রান্ত (সাড়ে ৬৮ লাখ) ও মৃতের (২০ লাখের বেশি) বহর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
পাশাপাশি, বাংলাদেশের নিকটতম (সর্বাধিক অভিন্ন সীমান্ত সম্পর্ক) প্রতিবেশী ভারত (আক্রান্ত ৫২ লাখ) তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।
এছাড়াও, করোনা আক্রান্তের সরকার প্রকাশিত দৈনিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে, বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার জনবহুল দেশ ব্রাজিল (৪৪ লাখ আক্রান্ত)।
এর আগে, মার্চের ১১ তারিখ, চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ কে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
এদিকে, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ১ হাজার ৫৯৩ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪ জন হল।
আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৩৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৫৯ জনে দাঁড়াল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৪৪৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪১২ জন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, ২৬ অগাস্ট তা তিন লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।
প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৭ সেপ্টেম্বর সেই সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ কোটি ৯৮ লাখ ছাড়িয়েছে; মৃতের সংখ্যা ৯ লাখ ৪০ হাজার পেরিয়ে গেছে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে সনাক্তের দিক থেকে ১৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৮তম অবস্থানে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯৪টি ল্যাবে ১৩ হাজার ৬৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৭৯টি নমুনা।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন, নারী ৮ জন। তাদের ৩৪ জন হাসপাতালে ও ২ জন বাড়িতে মারা গেছেন।
তাদের মধ্যে ২১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ২ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।
২০ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪ জন রাজশাহী বিভাগের এবং ২ জন খুলনা বিভাগের, ৩ জন বরিশাল বিভাগের এবং ১ জন করে মোট ২ জন সিলেট ও রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৪ হাজার ৮৫৯ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৭৮৮ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৭১ জন নারী।
তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৪৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ১ হাজার ৩২০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬৩০ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৮৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১১২ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২১ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।
এর মধ্যে ২ হাজার ৩৬৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ১৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩২৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪১২ জন খুলনা বিভাগের, ১৮৩ জন বরিশাল বিভাগের, ২১৮ জন সিলেট বিভাগের, ২২৯ জন রংপুর বিভাগের এবং ১০২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

শেয়ার