যশোর শহরের রায়পাড়া কয়লাপট্টিতে থামেনি মাদকের কারবার
কারাবন্দি মায়ের মাদক ব্যবসা এখন মেয়ের হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মায়ের অনুপস্থিতিতে মেয়ে ছন্দা খাতুনই এখন মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া কয়লাপট্টি শীর্ষ মাদক কারবারী শিলি বেগমের ডেরায় মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। কিছুদিন আগে মাদক কারবারী সোহরাব হোসেন ছোট’র স্ত্রী শিলি বেগম ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ আটক হন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সোহরাব হোসেন ছোট যশোর আদালতে নামমাত্র আইনজীবী সহকারীর কাজ করেন। আর স্ত্রী শিলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার করে আসছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে শিলির ডেরায় শুরু হয় মাদকের কারবার। শিলি বেগম শহরের পুরাতন কসবা এলাকার আজিজ সিটিতে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে। সেখানেই রাত যাপন করেন শিলি বেগম, স্বামী ও সন্তানরা। এছাড়া শহরে আরো একাধিক বাড়ি রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৬টার দিকে শিলি বেগম রায়পাড়া কয়লাপট্টিতে আসেন। আর ওই সময় মাদক তিনি নিজেই নিয়ে আসেন। তার ডেরায় শুরু হয় সারাদিন কারবার। আবার সন্ধ্যার পরই শিলি চলে যান আজিজ সিটিতে। আর শিলির শ্রমিক হিসেবে সেখানে মাদক বিক্রি করেন হোসেন মরার স্ত্রী আসমা বেগম, বাবলার স্ত্রী নাহার বেগম, হোটেল বাবুর স্ত্রী রাবেয়া বেগম, টাক হামিদ, জ্যাংকি ও জনিসহ কয়েকজন। সকাল থেকেই কয়লাপট্টি যেন মাদকের হাটে পরিণত হয়ে যায়।
কিছুদিন আগে শিলি বেগম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ আটক হন। সেই মামলায় এখনো তিনি রয়েছেন কারাগারে। আর তার অনুপস্থিতিতে মেয়ে ছন্দা খাতুনই এখন মায়ের ব্যবসার হাল ধরেছেন। পাশাপাশি ছন্দার বাবা সোহরাব হোসেন ছোট মেয়েকে সহযোগিতা করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এদিকে মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় শিলির বিরুদ্ধে রয়েছে এক ডজনের অধিক মামলা। এরপরও তিনি পূর্বের মতই করছেন মাদকের কারবার।
শিলির পক্ষে মাদক বিক্রির কাজ করছেন অর্ধডজন শ্রমিক। তারাও সকাল থেকেই ক্রেতার সন্ধানে কখনো মোবাইল ফোনে আবার কখনো রাস্তায় গিয়ে মাদক দিয়ে আসছেন। এছাড়ায় ওই এলাকায় মুরগি রহিম, তার স্ত্রী দুলারি বেগম, রহিমের জামাই রনি, খোকন, লম্বা পুটি, মরার স্ত্রী ভানু, জাহেদা, লিপি, রায়পাড়া রেললাইন পার হলেই ষষ্ঠীতলার রেখা, হাসিনা, রেলগেট পশ্চিমপাড়ার রিজিয়া, লুতু, আলামিন, রেখাসহ অনেকেই এই কারবারের সাথে জড়িত। এর মধ্যে মুরগি রহিম পুলিশের সোর্স বলে পরিচয় দেন। পাশাপাশি তিনি নিজেই ফেনসিডিল তৈরি করে বিক্রি করেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে পুলিশ বিভিন্ন সময় ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারীদের আটক করে মামলা দিয়েছে। এরপরও থামেনি তাদের মাদকের কারবার।
এই ব্যাপারে চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক রোকিবুজ্জামান বলেছেন, মাদক কারবার বন্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি এই ব্যবসা করে তাহলে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেছেন, সারা দেশের মত যশোরেও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই আবার গাঢাকা দিয়েছেন।

শেয়ার