যশোর ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক তিন প্রতিষ্ঠান ‘নীরব’
স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুশীলন করছে একাডেমিগুলো

ইমরান হোসেন পিংকু
যশোর ক্রীড়াঙ্গনের বড় অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃত জেলার তিন ক্রীড়াপ্রতিষ্ঠান এখন ‘নীরব’। মহামারী করোনাভাইরাসে কারণে এ তিন সংস্থার দায়িত্বশীলরা মাঠে খেলা ফেরাতে নেয়নি কোনো ভূমিকা। তবে সংশ্লিষ্ট ওই সব প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে ঘরে বসে থাকতে রাজি নন খেলোয়াড়রা। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার বেশকিছু ক্রীড়া একাডেমি নিজস্ব উদ্যোগে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে।
অপরদিকে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যবিধিসহ ১০ নিয়ম মেনে সীমিত আকারে সব ধরনের খেলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রীড়াঙ্গন পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলা ক্রীড়াঙ্গনের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ফুটবলের দেখভল করার দায়িত্ব জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের। এর বাইরে পুরুষ ও মহিলাদের সব ধরনের খেলাধুলার দায়িত্ব জেলা ক্রীড়া সংস্থার। আর আলাদাভাবে বলতে গেলে মেয়েদের খেলাধুলার দায়িত্ব জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা নিয়ে এ তিন প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গি। তারা বলছে, জেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রীড়াঙ্গন পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য বিষয়। এখানে এ ধরনের সাপোর্ট দেয়া কিংবা পাওয়া সহজ বিষয় নয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন জেলাগুলোতে খেলা মাঠে গড়ানোর বিষয়ে কোনো পত্র প্রদান করলে সেটা আমাদের পালন করতে হবে। তবে আমাদের প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো অবশ্যই অবহিত করবো। গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার জিমনেসিয়াম ব্যবহারকারী দু’টি ব্যাডমিন্টন একাডেমি অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে। একইস্থানে সৌখিন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়রাও তাদের শরীরচর্চা অব্যাহত রেখেছে সন্ধ্যার পর থেকে।
সাচ্চু ফুটবল কোচিং সেন্টার তাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়াম গ্যালারিতে। মাঠে বড় বড় ঘাস ও পানি থাকায় তারা মাঠ ব্যবহার করতে পারছে না। বাস্কেটবল খেলোয়াড়রা বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে অনুশীলন শুরু করেছে। বক্সিং খেলোয়াড়রা তাদের অনুশীলন শুরু করেছে বক্সিং রিংয়ে। কালেক্টরেট চত্বরে বেশ আগেভাগেই অনুশীলন শুরু করেছে অ্যাথলেটররা। এছাড়া বেশকিছু ক্রিকেটার ও হযরত ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়রা অনুশীলন শুরু করেছে উপশহর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে। এর বাইরে পাড়ামহল্লায়, গ্রামাঞ্চলে খেলাধুলা নানাভাবে অব্যাহত আছে।
যশোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আরিফিন বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় করোনার মধ্যে খেলা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। সেটা বাস্তবায়ন করা মফস্বল অঞ্চলগুলোতে কষ্টকর। যদি সরকারি সাহায্য পায় তাহলে খেলা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
যশোর ক্রীড়া সংস্থার যুগ্মসম্পাদক এবিএম আখতারুজ্জামান বলেন, জেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রীড়াঙ্গন পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য বিষয়। তবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ খেলা মাঠে গড়ানোর বিষয়ে কোনো পত্র প্রদান করলে সেটা আমাদের পালন করতে হবে। যদিও এখনও সেই ধরণের নির্দেশনা পায়নি।

শেয়ার