জলবায়ু পরিবর্তন: কারণ ও প্রভাব মোকাবেলায় করণীয়
সনাক-টিআইবি যশোরের উদ্যোগে ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি, যশোরের উদ্যোগে ‘জলবায়ু পরিবর্তন: কারণ ও প্রভাব মোকাবেলায় করনীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনার মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টায় অনুষ্ঠিত হয়। সনাক সদস্য এস এস তৌহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন যথাক্রমে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম, ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান ও পরিবেশ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। সভাপতিত্ব করেন সনাক যশোরের সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সনাক যশোরের জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল। ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব বিষয়ক’ ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন টিআইবি ঢাকা অফিসের সিএফজি ইউনিটের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যনেজার জাকির হোসেন খান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, আরআরএফ’র নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস, সনাক যশোরের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, টিআইবি’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যনেজার কাজী শফিকুর রহমান, উলাসী সৃজনী সংঘ’র নির্বাহী পরিচালক আজিজুল হক মনি, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাজেদ নওয়াজ, দৈনিক সমাজের কথা’র বার্তা সম্পাদক মিলন রহমান, তীর্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর দাস রতন, দৈনিক প্রথম আলো’র জেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, দৈনিক প্রতিদিনের কথা’র স্টাফ রিপোর্টার প্রণব দাস প্রমুখ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল হাসান বলেন, ‘নদী মাতৃক বাংলাদেশ নদী ফুরালেই সবই শেষ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ষড় ঋতুর বাংলাদেশ এখন তিন ঋতুতে পরিণত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমান অংশ চর জেগে উঠছে। কিন্তু সেটি পানির নীচে থাকলে কোন কাজে আসবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির প্রচন্ড অভাব দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের দেশে ৩ কোটি লোক উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। যশোরে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে যে প্রভাব হচ্ছে তা নিয়ে কাজ কার হবে ও এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে রক্ষার সব ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নেয়া প্রকল্পের জন্য মন্ত্রণালয় তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভরাট হওয়া নদী ও খাল উদ্ধারের কাজ করছে। ভৈরব নদ খননের এ পর্যায়ের কাজে মোট ৯৬ কিলোমিটার খনন হবে। এরই মধ্যে ৬০ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলে নৌ যোগাযোগ শুরু হবে। ভৈরব নদ খননে শহর অংশের কাজ করতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ পর্যায়ের কাজের জন্য সরকারি মোট বরাদ্দের ৩০% পাওয়া গেছে। এ বছর এখনো পর্যন্ত কোন অর্থ বরাদ্দ হয়নি। বর্ষা মৌসুমের কারণে এখন কাজ বন্ধ আছে। এই প্রকল্পে নদীর চারপাশে ওয়াক ওয়ে নির্মাণ হবে যাতে কেউ পুনরায় নদীর পাড় দখল করাতে না পারে। চলতি অর্থ বছরের এপ্রিলের মধ্যে এই পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। মণিরামপুর ও কেশবপুর অঞ্চলের হরিহর ও বুড়ি ভৈরব নদের ৪৫ কিলোমিটার খনন করা হবে। এরই মধ্যে ৩৫ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। ভৈরব নদ খননের দ্বিতীয় বেজে ১৮২ কিলোমিটার খনন করে নদের উৎসমূলে খনন করা হবে এতে নৌ যোগাযোগ সহজ হবে। নদীর দু’পাশে বনায়ন করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ৩৫ হাজার বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। নদী খননের জন্য তিন পর্যায়ের পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে সঠিক ভাবে কাজ হয়। ভৈরব নদ খননের শহরের নীলগঞ্জ অংশের কাজ শেষ হলে সেখানে জোয়ার-ভাটা দেখা যাবে। চৌগাছা উপজেলায় ভৈরব নদে পাট জাগ দেয়ার কারণে নদীর তলদেশে আবার ভরাট হতে পারে। সেখানকার উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলা হয়েছে। জনগণ না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সমালোচনার খাতিরে সমালোচনা না করে সঠিক তথ্য দিয়ে সমালোচনা করলে পরবর্তিতে ভুল কমিয়ে আনা সম্ভব। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার