খুলনার বাজারে টিসিবি’র পেঁয়াজের প্রভাব পড়েনি

৫০/৫৫ টাকার দেশি পেঁয়াজের কেজি এখন ১শ’ টাকা

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনায় সরকারি উদ্যোগে স্বল্প মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হলেও তার প্রভাব পড়েনি বাজারে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। তবে, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র পণ্য বিক্রির ট্রাকগুলোর সামনে সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভীড় লেগেই থাকছে।
এদিকে, একদিনের ব্যবধানে নগরীতে কেজি প্রতি ৪০ টাকা হারে দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের রপ্তানী বন্ধ ঘোষণার পর আড়তদারেরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
টিসিবি’র সূত্র জানান, রোববার থেকে নগরীর ময়লাপোতা মোড়, ডিসি অফিস সংলগ্ন রোড, শিববাড়ি মোড়, বয়রা বাজার মোড়, দৌলতপুর নতুন রাস্তার মোড়ে ডিলাররা ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করছেন। সাধারণ মানুষ ভোর থেকে অপেক্ষা করছেন লাইনে দাঁড়িয়ে। সকাল ৯টা থেকে বিক্রি শুরু হচ্ছে। এসব পয়েন্টে টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩০ টাকা। এছাড়া ৫০ টাকা দরে চিনি ও মশুরডাল এবং ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে ভোজ্য তেল। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ২ কেজি করে এসব পণ্য কিনতে পারছেন।
খুলনা টিসিবি’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, নগরীর ৫টি পয়েন্টে ট্রাকের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। একই সাথে ডাল, চিনি ও তেল বিক্রি কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে ৫দিন করে বিক্রি চলছে। তবে, শুক্র ও শনিবার এই কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম।
এদিকে নগরীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১শ’ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকা দরে। যার দাম রোববার ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের সূত্র জানিয়েছে, পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধে ভারতের ঘোষণার পর থেকেই আড়তদার এবং আমদানীকারকরা ইচ্ছেমত দাম হাঁকিয়েছে। তারা বাজারে পেঁয়াজ সরবারাহও কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে পাইকারী এবং খুচরা বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মাত্র সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ/তিনগুণ হারে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ আমদানিকারক ইসমাঈল হোসেন বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানী না হওয়ায় দাম বেড়েছে। দেশে এখনও এখন পর্যন্ত যে পেঁয়াজ রয়েছে তাতে আগামী মৌসুম পর্যন্ত ভালভাবে চলার কথা। তবে আড়তদারেরা কেন দাম বাড়াচ্ছে- সে বিষয়ে সরকারের আরও তৎপর হওয়া উচিত।
কেসিসি পাইকারী কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, পেঁয়াজের দাম সে হারে বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতারা কেন বাড়াচ্ছে। আমরা এখনও পর্যন্ত এক দাঁড়ি (৫কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি করছি ১৮০ টাকা দরে। তাহলে খুচরা বাজারে সেই পেঁয়াজ কেন ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হবে।
মিলন হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, এদেশে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগীতা চলে। যখন যে জিনিসের দাম বাড়ে প্রতি বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তায় থাকেন ব্যবসায়ীরা। এবছরও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে হচ্ছে। সরকারের উর্ধ্বতন মহল নিশ্চুপ থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তো বাড়বেই।

শেয়ার