আজ শুভ মহালয়া ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আজ বৃহস্পতিবার বাঙালি সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার সূচণালগ্ন শুভ মহালয়া। সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের মতে এদিন পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষে মহালয়ার এ শুভক্ষণ দুর্গতীনাশিনী দুর্গা দেবীর আগমনী বার্তা ধ্বনীত হয়।
পুরাণমতে, আশ্বিনী অমাবশ্যার এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। এ দিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। মহালয়া মানেই আর ৬ দিনের প্রতীক্ষা মায়ের পূজার। আর এই দিনেই দেবীর চক্ষুদান করা হয়। মহালয়া থেকে দুর্গাপূজার আগমন ধ্বনি শুনতে পাওয়া গেলেও এবার ৬ দিন পরে পুজা অনুষ্ঠিত হবেনা।
এ বছর মহালায়া অর্থাৎ পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর হলেও দুর্গতীনাশিনী শ্রীশ্রী দেবী দুর্গার বোধন অর্থাৎ ষষ্ঠী পড়েছে তার ৩৫ দিন পরে, অর্থাৎ আশ্বিন পেরিয়ে কার্তিক মাসে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এবছর আশ্বিন মাসে দুটো অমবস্যা। প্রথমটা ১৭ সেপ্টেম্বর ও দ্বিতীয়টা ১৬ অক্টোবর। শাস্ত্রীয় মতে তিথি-নক্ষত্রের হিসেবে আশ্বিন মাসে দুটো অমাবশ্যা। একমাসে দুটো অমাবশ্য পড়ায় এবছর আশ্বিন মাসকে বলা হচ্ছে ‘মলমাস’ (মলিন)। সনাতন ধর্মবিশ্বাসীরা এমন মাসে সাধারণত: শুভক্রিয়াকর্মাদী আয়োজন করেনা। ফলে পুজো পিছিয়ে কার্তিক মাসে চলে গেছে। তাই এবছর মহালয়া ১৭ সেপ্টেম্বর হলেও, ষষ্ঠী পড়েছে অর্থাৎ দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে ২২ অক্টোবর। পঞ্জিকা মতেই এটা ঘটতে চলেছে। ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছিল ২০০১ সালেও। সুতরাং, মায়ের আগমনীবার্তা বেজে যাওয়ার পরেও মায়ের মর্ত্যে আগমনে দেরির ঘটনা এই প্রথম নয় বলে জানিয়েছেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী আত্মবিভানন্দ মহারাজ।
শাস্ত্রীয় বিধান মতে, শ্রীশ্রী চ-ীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। আর এই ?’চ-ী’তেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা এবং দেবীর প্রশস্তি। এই বছরের পুজো অন্যান্য বছরের মত নয়। করোনা আতঙ্কের আবহেই এবার দেবীপক্ষের সূচনা হচ্ছে। আর মহামারীর দুর্যোগ মাথায় নিয়েই এবার হবে মাতৃ বন্দনা।
এদিন মহালয়ার শুভক্ষণে সনাতনধর্মীয় আচারানুষ্ঠান আর বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণে যশোরে তিল তর্পণ অনুষ্ঠানসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হবে। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শোক, তাপ, দুঃখ, অমঙ্গল, অন্ধকারহরণ করে শুভ, মঙ্গল, আনন্দপ্রদানকারী ও আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী মা’কে হিমালয় থেকে মর্ত্যে বরণ করে নেয়া হবে।
পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণে চিরাচরিত প্রথায় শুভারম্ভ হবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসবের দেবী পক্ষের।
এ উপলক্ষে সারা দেশের অন্যান্য জেলার মত যশোরেও যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে ব্রহ্মমুহুর্তে শুরু হবে তিলতর্পণ অনুষ্ঠানের। নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে সকালে হবে তিলতর্পণ অনুষ্ঠান। এছাড়া সনতান ধর্ম সংঘ যশোরের আয়োজনে সকাল ৬টায় পৌর উদ্যানো পুকুরের পশ্চিম পাড়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

 

শেয়ার