অভয়নগরের কলেজছাত্রী চম্পা বললেন, ‘পাচারের অভিযোগ মিথ্যা’

 নিজ সিদ্ধান্তে বিয়ে করায় অভিভাবকদের মিথ্যা তথ্য প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অভয়নগরের কলেজ ছাত্রী চম্পা বিশ্বাসকে পাচার করা হয়নি বলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বরং নিজের ইচ্ছায় শুভেন্দু কুমার বিশ্বাস নামে এক যুবককে বিয়ে করায় তার মা ও দাদা সুশান্ত কুমার বিশ্বাস ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাচারের অভিযোগ এনে অভয়নগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন চম্পা বিশ্বাস। এসময় সাথে ছিলেন তার স্বামী শুভেন্দু কুমার বিশ্বাস, প্রতিবেশি আক্তারুজ্জামান, মোহাম্মদ টিটুল, কামরুজ্জামান ও মাহবুব হোসেন প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে চম্পা বিশ্বাস বলেন, তিনি খুলনার বিএল কলেজে স্নাতকোত্তর অধ্যায়নরত রয়েছেন। একই গ্রামের শুভেন্দু কুমার বিশ্বাসের সাথে তিনি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। শুভেন্দু কুমার বিশ্বাস একজন সরকারি কর্মচারী। গত ৯ আগস্ট সনাতনী মতে শুভেন্দুর সাথে চম্পা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পাশাপাশি ১২ আগস্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিবাহ হয়েছে মর্মে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে তিনি যশোর শহরের হাইকোর্ট মোড়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর সাথে সংসার করে আসছেন। কিন্তু তাদের বিয়ের বিষয়টি মেনে নেয়নি চম্পার পরিবার। ফলে তার মেঝো দাদা সুশান্ত কুমার বিশ্বাস গত ১১ সেপ্টেম্বর যশোর মানবপাচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ চম্পাকে শুভেন্দু ভারতে পাচার করেছেন মর্মে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর অভয়নগর প্রেসক্লাবে চম্পার দাদা সুশান্ত কুমার সংবাদ সম্মেলন করেন। যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নিজের ইচ্ছায় চম্পা বিয়ে করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার দাদা মিথ্যা মামলা করে এবং সংবাদ সম্মেলন করে তাদের মানসম্মানের ক্ষতি করছেন। আর চম্পার দাদার সাথে সহযোগিতা করছেন সুকান্ত, সমীর, হিরামন, মন্টু ও সুভাষসহ কয়েকজন কতিপয় ব্যক্তি। এতে করে চম্পা ও তার স্বামীর জীবনে উপর ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আপন ভাই হয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর চম্পার আরেক বোন বন্যা বিশ্বাসকে ভারতে পাচার করেছেন।
এছাড়া চম্পার দাদা নিজেই একজন অর্থপাচারকারী। বাংলাদেশ থেকে ভারতে একাধিক বাড়ি ও জমি ক্রয় করেছেন। চম্পা তার স্বামী ও পরিবারের নিরাপত্তা, বোন বন্যা বিশ্বাসের পাচার রোধ এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার দাবি করেন।

 

শেয়ার