পঞ্চমের সনদ দেবেন প্রধান শিক্ষক স্কুলের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে ভর্তি

সমাজের কথা ডেস্ক॥ চলতি বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার সব বিভাগের উপ-পরিচালক, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
আর করোনাভাইরাস মহমারীর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা না গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সনদ দেবেন। সেই সনদের ভিত্তিতে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন জানিয়েছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রেরিত নির্দেশনায় বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারীর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শুধুমাত্র ২০২০ সালের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়নের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
মহামারীর মধ্যে এবারের অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে হবে না বলে গত ২৭ অগাস্ট সিদ্ধান্ত দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে, করোনাভাইরাস মহমারীর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা না গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সনদ দেবেন। সেই সনদের ভিত্তিতে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন জানিয়েছেন।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে গণশিক্ষা সচিব বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। স্কুল খোলা না গেলে অটো পাস দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে আকরাম বলেন, “সেটা সময়ই বলে দেবে। আমরা যদি স্কুল না খুলি তাহলেও তো আমাদের বাচ্চাদের পরবর্তী ধাপে (ক্লাসে) দিতে হবে।
“আমি সব সময় বলি, এক ক্লাস না পড়ে আরেক ক্লাসে উঠেছি। একাত্তর সালে আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি, ৭ মার্চের পর যখন স্কুল বন্ধ হয়ে গেল তারপরে বাহাত্তর সালে জানুয়ারিতে সিক্স থেকে সেভেনে তুলে দেওয়া হল। আমার তো দক্ষতায় কোনো সমস্যা হয় নাই।”
কখন বিদ্যালয় খোলা যাবে তার উপর নির্ভর করে দুটি ‘লেসন প্ল্যান’ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান গণশিক্ষা সচিব।

তিনি বলেন, “কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে এবং সরকার যদি মনে করে যে বাচ্চারা এখন নিরাপদ, তারা স্কুলে গেলে কোনো সমস্যা হবে না। সেই অবস্থা হলে আমরা স্কুল খোলার যদি সুযোগ পাই তাহলে আমাদের অনুমোদিত দুটি লেসন প্ল্যান আছে, অক্টোবর ও নভেম্বর।
“সেটা যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে আমাদের লিমিট শেষ করার তারিখ ২০ ডিসেম্বর। একটা ৫২ দিন, আরেকটা ৪০ দিন। যদি অক্টোবরে খুলতে পারি তাহলে এক রকম হবে, যদি অক্টোবরে খুলতে না পারি যদি নভেম্বরে খুলতে পারি তাহলে ৪০ দিন পাব।”
গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত পাঠ পরিকল্পনার ৩৫ শতাংশ শেষ হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, সারা দেশে এখন একই পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। ঢাকা শহরে একটা স্কুলে যে পৃষ্ঠা পড়ানো হয়, সেটা পঞ্চগড় বা মাগুরা বা দিনাজপুর বা কক্সবারের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলে একই পাঠ দেওয়া হয়।
“যদি স্কুল খোলা সম্ভব হয়ে আসে, আমাদের সংশোধিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে হয়ত ২০ ডিসেম্বরের পরে শিক্ষকরা স্ব স্ব স্কুলে বাচ্চাদের মূল্যায়ন করতে পারবে, পরীক্ষার কথা বলিনি। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেবে। আর যদি স্কুল খুলতে না পারি তাহলে… (অটোপাস)।”
পঞ্চমের শিক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে সেই প্রশ্নে সচিব বলেন, “পরীক্ষা না হলে গ্রেডিং কোনো বিষয় না। তাকে পরবর্তী ক্লাসে অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণিতে উন্নীত করার জন্য তার স্কুল হেড মাস্টার একটা সার্টিফিকেট দিয়ে দিল।”

শেয়ার