দুর্নীতিতে ডুবে আছেন আশাশুনি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥ আশাশুনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম দম্ভোক্তি ছুঁড়ে বলেছেন আমার বিরুদ্ধে যে যা পারে লিখুক আমার তাতে কিছু যায় আসে না। তাঁর এই দম্ভোক্তিমূলক হুংকারের নেপথ্যের শক্তি কী তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগিদের পক্ষ থেকে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম আশাশুনিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দায়িত্ব পালনে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে শিক্ষা বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বড় অংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। তিনি ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষা অফিস অচল হতে চলেছে। প্রতি সপ্তাহে তিনি রবি ও সোমবার কর্মস্থলে আসেন না। এটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। চলতি ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর তিনি কর্মস্থলে আসেননি। মায়ের অসুস্থতার সময় তিনি একটানা ১২ দিন ও শ্যালিকার বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় একটানা ৯দিন অফিসে আসেননি। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে তার সিএল ছুটি কতদিন ?
এবছর ৮ জনের বদলির আদেশের অনুমতি ডিপিইও অফিস থেকে আসলে তিনি একসাথে না করে পৃথক ভাবে বদলির আদেশ দেন। একেক জনের সাথে পৃথক চুক্তির মাধ্যমে বদলী করানো হয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে পারস্পরিক বদলী করে তিনি ৬ লাখ টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক বদলীতে পদখালি আছে ৭টি, কিন্তু উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে উপরি গ্রহণের মাধ্যমে মাত্র একটি স্কুলের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। কেউ অফিসে কাজে আসলে বড় বাবুর কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি, বড় বাবু ফাইল ফুটআপ দেয়ার জন্য অংক কষেন। অংক না মিললে পরে আসেন বলে টালবাহানার একপর্যায়ে দাবি মিটিয়ে কাজ করা হয়ে থাকে। তিনি পরিদর্শন ব্যতীত চেক ছাড়ের নজির স্থাপন করেছেন। তবে কাজ হয়নি, পরে মোটা অংকের টাকা ও মাছ আদায় করে নিয়েছেন। আবার বারবার পরিদর্শন করেও অর্থদাবী নামক বিশেষ কারণে চেক ছাড় হয়নি এমন অভিযোগ রয়েছে। সপ্তাহে যেদিন অফিসে আসেন সেদিন দুপুরে লান্সের নামে ৩/৪ ঘন্টা বাসায় কাটিয়ে থাকেন। শিক্ষকদের উপর পুলিশ সুলভ খবরদারীর অফিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অফিস থেকে শ্রীউলার সহকারী শিক্ষক ইলিয়াসের পদোন্নতি ফাইল গায়েব করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে একটি মামলায় দু’জন কালাম, ইলিয়াস ও আক্তারুজ্জামান অভিযুক্ত হন। কিন্তু কেবল ইলিয়াসের পদোন্নতি ঠেকানোর জন্য একজন এইউইওকে খারাপ মন্তব্য লিখতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কোন এইউইও তার অবৈধ আদেশ না মানলে এসিআর খারাপ দেওয়ার হুমকী প্রদান করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়ছে। বিদ্যোৎসাহী সদস্যদের অনুমতির জন্য তিনি এক থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এমন এন্তার অভিযোগ এনে ভুক্তভোগিরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করার কথা। সেখানে কাজকে অর্থের সাথে মিশিয়ে নিজের আখের গোছান এবং কর্মস্থলে না থেকে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্থবির করার হীন চক্রান্তকারীর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য অভিজ্ঞ মহল ও ভুক্তভোগিরা কামনা করছেন। এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন পেপার পত্রিকায় লিখে কোন লাভ হবে না। আপনাদের যার যা লেখার তা আপনারা লিখতে পারেন। তাতে আমার কিছু যায় আসে না বলে তিনি জানান।

শেয়ার