রেমিট্যান্স পাঠানোয় শীর্ষে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা

সমাজের কথা ডেস্ক ॥ করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে বিশ্বজুড়ে মন্দা থাকলেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা। কয়েক মাস ধরেই রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন তারা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময়ে অর্থনীতির সবগুলো সূচক যখন ছিল নেতিবাচক, তখনো এই রেমিট্যান্সেই ছিল কেবল ঊর্ধ্বগতি। আর এই রেমিট্যান্সে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছেন সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে প্রথম দুই মাসেই রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিলেন সৌদি আরব প্রবাসীরা। তাদের পরেই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের। গত দুই মাসে রেমিট্যান্স পাঠানোয় তৃতীয় স্থানে ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরারাতের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে ৪৫৬ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর মধ্যে জুলাই মাসে ২৬০ কোটি ডলার ও আগস্ট মাসে ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে। জুলাই মাসের ২৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স কোনো একমাসে দেশে আসা রেমিট্যান্সের রেকর্ড। অর্থাৎ একমাসে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি দেশে। এর আগে চলতি বছরেরই জুনে ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, তা ছিল ওই সময় পর্যন্ত রেকর্ড। পরে আগস্টে তার চেয়েও প্রায় ১৩ কোটি ডলার বেশি রেমিট্যান্স এলে তা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডের স্থান করে নেয়। এদিকে, প্রথম দুই মাসে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরাই রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২১৬ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার, যা দুই মাসে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের অঙ্কের ৪৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। রেমিট্যান্স পাঠানোয় শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো— সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়শিয়া, ওমান, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, কাতার, ইতালি ও সিঙ্গাপুর।
ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি (২০১৯-২০২০) অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স পাঠানোয় শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটি থেকে (জুলাই-আগস্ট) দুই মাসে এসেছে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৮ কোটি ৩২ লাখ ডলার, যা দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ২৪ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৫৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ৫২ কোটি ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৪৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার ও ওমান থেকে ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য থেকে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, কুয়েত থেকে ৩০ কোটি ৯৮ লাখ ডলার, কাতার থেকে ২২ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ইতালি থেকে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ও সিঙ্গাপুর থেকে ১৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সৌদি আরবের প্রবাসীরা আগস্টে ৪৫ কোটি শূন্য ৬ লাখ ডলার এবং জুলাই মাসে ৬৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগস্টে ২১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ও জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে আগস্টে ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার ও জুলাইয়ে ২৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। চতুর্থ অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে আগস্টে রেমিট্যান্স আসে ১৯ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, জুলাইয়ে এর পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ওমান থেকে আগস্টে ১৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার ও জুলাইয়ে ১৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৩১ কোটি মার্কিন ডলার, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। অন্যদিকে পঞ্জিকা বছরের হিসাবে, ২০১৯ সালে রেকর্ড ১ হাজার ৮৩৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে। এছাড়া ২০১৮ সালে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩৫৩ কোটি মার্কিন ডলার, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৬১ কোটি মার্কিন ডলার ও ২০১৫ সালে ১ হাজার ৫৩১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স জিডিপিতে অবদান রেখেছে ১২ শতাংশের বেশি।

শেয়ার