‘দেশের ফুটবল বাঁচাতে’ রাজধানীতে প্রতিবাদ সভা

সমাজের কথা ডেস্ক ॥ করোনার মহামারির মধ্যেও ফুটবলের টানেই রাজধানীর প্রেসক্লাবে ছুটে এসেছেন একদল তরুণ ফুটবল সমর্থক। মুখে মাস্ক আর হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে নেমে পড়েছেন প্রতিবাদে। প্রতিবাদ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ সভা ‘দেশের ফুটবলের ঐতিহ্য ফেরাতে পরিবর্তনের’। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই প্রেসক্লাবে জড়ো হতে থাকেন ফুটবল সমর্থকরা। ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের নেতৃত্বে ‘আমরাও একদিন ফুটবল বিশ্বের শক্তিশালী খেলুড়ে দেশ হতে চাই’ শীর্ষক এই মানববন্ধন আয়োজন করে ‘প্রজন্ম, ফুটবল যাদের চেতনায় ও অস্তিত্বে’। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মোহামেডানের বিখ্যাত ডিফেন্ডার কায়সার হামিদ। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে কাজী মো. সালাউদ্দিন দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি বলে মনে করেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, ‘সবশেষ ২০১৬ সালের নির্বাচনে কাজী সালাউদ্দিন বলেছিলেন এটাই তার শেষ নির্বাচন। ১২ বছর ধরে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। গেল নির্বাচনে বলেছিলেন ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলাবেন। চিত্রটা পুরোপুরি ভিন্ন।’ র‌্যাংকিংয়ে বর্তমানে ১৮৭ তম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে ১৯৭তম স্থানে নামতে হয়েছিল। সেখানে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলার মতো দিবাস্বপ্ন দেখানো বোকামি ছাড়া কিছু নয় উল্লেখ করে কায়সার বলেন, ‘আমরা ভুটানের মতো দলের কাছে হারি। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে দিন দিন নিচে নামছি। আমরা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল-সাফেই তলানিতে আছি, কীভাবে বিশ্বকাপে যাবো?’ আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফে নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বাদল রায়। কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সভাপতি পদে লড়ছেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। এর আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তরফদার রুহুল আমিনও।
কায়সার হামিদ বলেন, ‘ফুটবলের উন্নয়ন না, তাদের উদ্দেশ্য চেয়ার দখল। ভালো লোককে তারা বাফুফেতে আসতে দেয় না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভোটারদের নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা। ভালো মানুষ ভোটে দাঁড়ালে তাদের বসিয়ে দেয়া হয়। যারা সত্যিকারের ফুটবলপ্রেমী ও সংগঠক তাদেরকে নেতৃত্বে আসতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ফুটবল খেলতেন। তার ছেলে শেখ কামাল সংগঠক ছিলেন। ফুটবলপ্রেমী পরিবারের সদস্য হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাফুফের দায়িত্ব নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অনেক জায়গায় পরিবর্তন এনেছেন। আশা করি বাফুফের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিবেন তিনি।’ ফুটবলে যারা অসৎ উপায়ে আয় করছেন তাদের সবার বিচারও দাবি করেছেন কায়সার হামিদ। এসময় ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘এখানে যারা দাঁড়িয়েছে কেউ বাফুফের নেতা হতে আসেনি। কেউ বাফুফের দুর্নীতির ভাগ নিতে আসেনি। যারা এসেছেন বিবেকের টানে, দেশ ও ফুটবলকে ভালোবেসে এসেছেন। যেখানে দুর্নীতির মহাউৎসব চলছে। বাফুফের রুমে রুমে বসে ভাগাভাগি যখন চলছে। এই ছেলেরা এখানে এসেছেন ফুটবলের প্রেমে। তারা জানেন, তাদের আওয়াজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নাও পৌঁছতে পারে। তবু আমি তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘শেখ কামাল সাহেব ফুটবল প্রেমী ছিলেন। তিনি বেচে থাকলে আজকে ফুটবলের এই অবস্থা হতো না। ফুটবল নিয়ে আপনার ভাইয়ের হৃদয়ে জায়গা ছিল। এই ফুটবলকে আপনি বাঁচিয়ে দিন।’

 

 

শেয়ার