ছয় মাসেরও বেশি সময় পর কোচদের সান্নিধ্যে টাইগাররা

সমাজের কথা ডেস্ক ॥ ছয় মাসেরও বেশি সময় পর দিনব্যাপী শিষ্যদের নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করলেন জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ। সবার মধ্যমণি হয়ে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো নিবিষ্ট চিত্তে শিষ্যদের ব্যাটিং বোলিং ও কিপিং অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করলেন। পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের টিপসে বোলিং অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন পেসাররা, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক ছিলেন থ্রোয়িং ও কিপিং প্রশিক্ষণে রত, ট্রেনার নিক লি তদারকি করেছেন টাইগারদের ফিটনেস। আর ফিজিও জুলিয়ান ক্যালোফাতো মাঠে ঘুরে ঘুরে ক্রিকেটারদের মনিটর করেছেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা সবশেষ কোচিং স্টাফের সান্নিধ্যে এসেছিলেন গেল মার্চে। ১১ মার্চ মিরপুর শের-ই-বাংলায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে শেষবারের মতো রাসেল ডমিঙ্গো, ওটিস গিবসন, রায়ান কুক, ডেনিয়েল ভেট্টোরি ও ট্রেভল লি, নেইল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে কাজের সুযোগ হয়েছিল তামিম-মুশফিকদের। ওই শেষ। কেননা এরপর করোনা অতিমারি দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাব ছড়াতে শুরু করলে দেশের ক্রিকেট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। বিদেশি কোচিং স্টাফরাও স্ব স্ব দেশে ফিরে যান। এর প্রায় ৬ মাস পর শ্রীলঙ্কা সিরিজ উপলক্ষ্যে গত সপ্তাহে কর্মস্থলে ফিরেছেন তিন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, রায়ান কুক ও ওটিস গিবসন। ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতো ও ট্রেনার নিক লি তো আগের মাসেই এসেছেন। ইংলিশ নিক লি ও প্রোটিয়া ক্যালোফাতো যেহেতু আগের মাসে এসেছেন তাই মহামারিকালের ভ্রমণ বিধি অনুযায়ী তারা দুজনেই ১৪ দিনের কোয়ারেনটাইন শেষ করেছেন। অপর তিন কোচ; ডমিঙ্গো, গিবসন ও কুকের অবশ্য সাত দিনেই কোয়ারেনটাইন শেষ হয়েছে। কেননা লঙ্কা সিরিজকে সামনে রেখে তাদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বিশেষ অনুমতি চেয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। সেই সময় শেষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে আবার শিষ্যদের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিলেন। মাস ও দিনের হিসেবে ৬ মাস ৩ দিন। এরমধ্যে অবশ্য কোচিং স্টাফে কিঞ্চিৎ পরিবর্তনও এসেছে। গত মাসেই ব্যাটিং পরামর্শকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি। তার চলে যাওয়ায় লঙ্কা সিরিজ উপলক্ষ্যে ক্রেইগ ম্যাকমিলানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্পিন বোলিং কোচ ডেনিয়েল ভেট্টোরি ও ক্রেইড নিউজিল্যান্ড থেকে সরাসরি শ্রীলঙ্কায় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ আসন্ন লঙ্কা সিরিজ নিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন যা বললেন তাতে শ্রীলঙ্কা সিরিজটি আর মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনাই নেই। কেননা আসন্ন তিন ম্যাচ সিরিজের এই টেস্ট সামনে রেখে কঠিন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে স্বাগতিক লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যা বিসিবি’র পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। ফলে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে এসব কঠিন শর্ত মেনে নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে এখন কী হবে? কোচ ও ক্রিকেটাররা বসে থাকবে? না, সেটা হচ্ছে না মোটেই। বরং লঙ্কানদের না বলে দেওয়ায় প্রায় ৭ মাস বন্ধ থাকা ক্রিকেট ফেরাতে তৎপর হয়ে উঠেছে টাইগার প্রশাসন। এবং তারা চাইছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ ফেরাতে যেখানে কোচিং স্টাফদেরও নিয়মিত তৎপরতা থাকবে।

শেয়ার