অযুহাতে মূল্যবৃদ্ধি রুখতে হবে

চলছে করোনা মহামারি কাল। মানুষজন নানা দুর্ভোগে। এরওপর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের নতুন করে কষ্টে ফেলছে। বিশেষ করে হঠাৎই পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় মানুষজন পড়েছে চরম বিপাকে। এ অবস্থায় পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজারে প্যারালাল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রেখে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে হবে।
ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির খবরে দেশের বাজারেও নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিনে কেজিতে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৩০ টাকা বেড়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় উঠেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত রফতানি বন্ধ করলে সেসময় দেশের বাজারে হু হু করে দাম বেড়েছিল পেঁয়াজের। রেকর্ড ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে পেঁয়াজের কেজি। এই পরিস্থিতি চলমান ছিল কয়েকমাস। এবার যেন পেঁয়াজ সিন্ডিকেট কোনো সুযোগ নিতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
আশার কথা হচ্ছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববার থেকে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে প্রতিকেজি ৩০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করছে সরকার। চলমান করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি ও বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সারাদেশে তিনটি পণ্য বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পেঁয়াজের পাশাপাশি চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি করবে টিসিবি। শুক্র ও শনিবার ব্যতিত আগামী ১ অক্টোবার পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
টিসিবির ট্রাক থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাবে ৩০ টাকায়, যা একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি কিনতে পারবেন। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি পাওয়া যাবে ৫০ টাকায়, যা একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি কিনতে পারবেন। মসুর ডাল ৫০ টাকা কেজিতে একজন ক্রেতা সার্বোচ্চ দুই কেজি নিতে পারবেন। এছাড়াও সয়াবিন তেল ৮০ টাকা লিটারে একজন ক্রেতা দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার নিতে পারবেন।
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নানা কথা বলা হয়। কথায় আছে, দুর্জনের ছলের অভাব হয় না। একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর লাভ ও লোভের কারণেই যে পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। মুনাফালোভী এই মানসিকতা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সরকারের হাতে খুব একটা নেই। তারপরও টিসিবিকে কার্যকর করে একটি প্যারালাল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রেখে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা যায়। খুঁজে দেখতে হবে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হল কী করে। এক্ষেত্রে কী কারো কোনো দায়-দায়িত্ব নেই?
যে কোনো উসিলায় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন-কানুন নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই এখানে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হবে আর সরকার শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং সিন্ডিকেটধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অবিলম্বে পেঁয়াজের মূল্য জনসাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে যার যা করণীয় রয়েছে সেটি করতে হবে। এজন্য সরকার-ব্যবসায়ী সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। ত্যাগ করতে হবে মুনাফালোভী মানসিকতা।

শেয়ার