নৌপথ নিরাপদ হবে কবে?

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক সংখ্যক প্রাণহানির শোক কাটিয়ে না উঠতেই এবার নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার গুমাই নদীতে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা আবারো প্রমাণ করলো নৌপথ এখনো কতোটা অনিরাপদ। নৌদুর্ঘটনা রোধে নানা রকম উদ্যোগের কথা বলা হলেও যাত্রী নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। যে কারণে অহরহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেই চলেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। নইলে এ ধরনের মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে। নিরীহ নিরপরাধ মানুষগুলো লঞ্চ মালিকের লাভ ও লোভের বলি হয়ে লাশের ভেলা হয়ে নদীতে ভাসবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৫ শিশু, ৩ নারী ও ২ জন পুরুষ। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার মধ্যনগর থেকে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার নেত্রকোণা সদরের ঠাকুরাকুণা যাচ্ছিলো। কলমাকান্দার রাজনগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় যাত্রীবাহী ট্রলারটির। এতে ডুবে যায় যাত্রীবাহী ট্রলারটি।
দেশে নৌদুর্ঘটনা নতুন নয়। প্রাণহানির ঘটনাও যেন অনেকটা রুটিন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতিবছর নৌ-দুর্ঘটনায় ২০৭ জন জীবন হারাচ্ছেন। নৌ, সড়ক ও রেল খাত রক্ষা জাতীয় কমিটির হিসাব মতে, ১৩ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই হাজার ৬৮৮ এবং নিখোঁজ হয়েছেন এক হাজার বাইশ জন। মানুষের জীবনের কোনো মূল্য থাকলে এভাবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘায়িত হতো না। দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে দেশে প্রতিবছর নৌ-দুর্ঘটনা বাড়লেও তা দেখার যেন কেউ নেই। নৌ মন্ত্রণালয় অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে নানা কথা বলে কিন্তু কাজের কাজ তেমন কিছু একটা হয় না। নাহলে দুর্ঘটনায় এতো প্রাণহানি ঘটে কী করে?
নৌপথগুলোতে ফিটনেসবিহীন নৌযান চালানো দ-নীয় অপরাধ। কিন্তু নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযানের ছড়াছড়ি। এছাড়া প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যতিরেকেই চলে অধিকাংশ নৌযান। এসব তদারকির জন্য রয়েছে নৌপরিদর্শক। এছাড়া ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়মিত পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এরপরও দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ অবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন। তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপথ নিরাপদ হোক-এটিই দেখতে চায় মানুষজন।

শেয়ার