করোনাভাইরাসে দেশে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৪
বিশ্বজুড়ে মৃত্যু ৯ লাখ ছাড়াল

সমাজের কথা ডেস্ক॥ চীনের উহান থেকে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার ৯ মাসের মধ্যে বিশ্বে নতুন করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ লাখ ২ হাজার ১৪১ জন ছিল এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৭৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৯২ জন। বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ১ হাজার ৮৯২ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৭০ জন হল। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৪১ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৪ জনে দাঁড়াল।
করোনাভাইরাস মহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৭৬ জনে।
মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল। করোনাভাইরাসে এখানে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৫৩৯ জনের। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া মোট কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৯ জন।
মৃত্যুর সংখ্যায় ব্রাজিলের পর তৃতীয় স্থানে আছে ভারত। এ দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭৪ হাজার ছুঁইছুঁই করছে। ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ১২৮ জন শনাক্ত রোগী নিয়ে আক্রান্তের তালিকায় ভারত দ্বিতীয় স্থানে আছে।
সোমবার ভারতে ৯০ হাজার ৮০২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। এটি মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের নতুন রেকর্ড। এর মধ্যদিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যায় দেশটি ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে যায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দুই আমেরিকা মহাদেশের পর মহামারীর কেন্দ্রটি এখন বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ভারতে অবস্থান করছে। প্রথমে কঠোর লকডাউন জারি করায় করোনাভাইরাসের বিস্তার ধীর গতিতে ছড়ালেও ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
লকডাউন তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় বুধবার দেশটিতে বারগুলোও ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে কোভিড-১৯ এ অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে ভারতে দৈনিক মৃত্যু বেশি হচ্ছে, গড়ে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি রোগী মারা যাচ্ছে।
বিশ্বে করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যুর সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি দুই আমেরিকায় ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল ছাড়াও ওই অঞ্চলের মেক্সিকো, পেরু, কলম্বিয়া, চিলি ও ইকুয়েডরও মৃত্যুর তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে।
গত দুই সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এ দৈনিক গড়ে ৫ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি লোকের মৃত্যু হচ্ছে।
মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৮ লাখ থেকে ৯ লাখে পৌঁছতে ১৮ দিন লেগেছে। এর আগে মোট মৃত্যু ৭ লাখ থেকে ৮ লাখে পৌঁছতে ১৭ দিন লেগেছিল। সেই হিসেবে মৃত্যুর গড় হার প্রায় স্থিতিশীল আছে।
কোভিড-১৯ জনিত প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি রেকর্ড হয়েছিল ১০ জুন চীনের উহানে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে এই শহরটিতেই প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল।
এদিকে, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৯২ জন।
বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ১ হাজার ৮৯২ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৭০ জন হল। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৪১ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৪ জনে দাঁড়াল।
আইইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৭৪৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৫০ জন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, ২৬ অগাস্ট তা তিন লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।
প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৭ সেপ্টেম্বর সেই সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ কোটি ৭৮ লাখ ছাড়িয়েছে; মৃতের সংখ্যা ৯ লাখ পেরিয়ে গেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে সনাক্তের দিক থেকে ১৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৯তম অবস্থানে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯৪টি ল্যাবে ১৫ হাজার ৫৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ১১টি নমুনা।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭০ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩১ জন, নারী ১০ জন। তাদের মধ্যে সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।
তাদের মধ্যে ১৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৮ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।
২২ জন ঢাকা বিভাগের, ৬ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৫ রাজশাহী বিভাগের, ৩ জন খুলনা বিভাগের, ১ জন সিলেট বিভাগের এবং ২ জন করে মোট ৪ জন রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৪ হাজার ৬৩৪ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৬১৩ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ২১ জন নারী।
তাদের মধ্যে ২ হাজার ৩১৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ১ হাজার ২৫৮ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬০৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৭৯ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১০৯ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪০ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২০ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।
এর মধ্যে ২ হাজার ২৩৯ জন ঢাকা বিভাগের, ৯৮৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩১১ জন রাজশাহী বিভাগের, ৩৯৩ জন খুলনা বিভাগের, ১৭৮ জন বরিশাল বিভাগের, ২০৯ জন সিলেট বিভাগের, ২২০ জন রংপুর বিভাগের এবং ১০০ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

 

শেয়ার