যশোর, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরে দুধ প্রক্রিয়াজাত করার তিনটি প্লান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে সমবায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেছেন, বিদ্যমান সমবায় আইন খাতটির উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়ক নয়। তাই পুরাতন আইন পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে সমবায় বিধিমালায় পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিরই সেটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে। যেটি সমবায়ের উন্নয়নে ও পরিবর্তনে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, যশোর, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরে দুধ প্রক্রিয়াজাত করার তিনটি প্লান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনা হয়েছে। এসব প্লান্ট স্থাপনের পাশাপাশি এখানে দুধ সরবরাহের জন্য গরু কেনার জন্যও সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে। প্রতিটি প্লান্টের জন্য ৫০০টি করে গরু কেনা হবে। এসব গরুর থেকে উৎপাদিত দুধ প্লান্টে প্রক্রিয়াজাতের জন্য সরবরাহ করা হবে। আর এই প্রক্রিয়াটির সাথে স্থানীয় সমবায়ীদেরও যুক্ত করা হবে। এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার যশোর সার্কিট হাউসে যশোর জেলার সমবায়ীদের সাথে করোনাকালীন ও পরবর্তী সময়ে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সমবায় কার্যালয় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
মতবিনিময়ে তিনি আরও বলেন, মধ্যম আয় থেকে দেশ উন্নত দেশে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে করোনা সংকট পরিস্থিতি শুরু হলো। ফলে করোনা বিপর্যয়ে সারা বিশ্বের মতন বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এমন অবস্থায় অন্য সবার মতন সমবায়ীরাও ক্ষতির আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। আর এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠানোর জন্য সমবায়ীদের নতুন বিনিয়োগ ক্ষেত্র উদ্ভাবন করতে হবে।
করোনার সময় সমবায়ীরাও প্রণোদনা পাবার দাবিদার এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে। তাই করোনাকালে সবার মতন তারাও প্রণোদনা সুবিধা পাওয়ার দাবিদার। এজন্য করোনাকালীন সংকটের কারণে অসুবিধায় থাকা সমবায়ীদের প্রণোদনা সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর তাদের প্রণোদনার আওতায় আনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাধীন রয়েছে।
মতবিনিময়ে যশোরের সমবায়ীরা করোনাকালীন তাদের নানা অসুবিধার দিক তুলে ধরে বলেন, একদিকে ঋণ আদায় বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে যেসব গ্রাহকরা ঋণ চেয়ে পাচ্ছে না তারা সঞ্চয় উত্তোলন করে নিচ্ছেন। ফলে তারল্য সংকটের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠান চালানো দুস্কর হয়ে পড়ছে। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর জাহান ইসলাম নীরা ও সমবায় অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক মিজানুর রহমান।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা সমবায় ইউনিয়নের সহ-সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন, কেশবপুর আস্থা সমবায় সমিতির সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, মণিরামপুর কপালিয়া মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি পরিতোষ সরকার, অভয়নগর কৃষি সমবায় সমিতির সভাপতি ফারুক হোসেন, সিটিজেন সঞ্চয় সমবায় সমিতির সভাপতি ওহিদুজ্জামান, সদর উপজেলা ক্রিষ্টান কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি নির্মল হালদার, মণিরামপুর পল্লি ঋণ সঞ্চয় সমবায় সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন স্তরের সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার