শোকের মাস আগস্ট

সমাজের কথা ডেস্ক॥ হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ/কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে-শাবাশ বাংলাদেশ/ এ পৃথিবী, অবাক তাকিয়ে রয়/জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার/তবু মাথা নোয়াবার নয়। যার আহ্বানে মহান মুক্তিযুদ্ধে পদ্মার উচ্ছ্বসের ন্যায় কেঁপে কেঁপে উঠেছিল বাঙালী জাতি তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালী জাতি যে কোন শোষণ, অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায় না বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই তো তিনি পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে বলতে পেরেছিলে, ৭ কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাকে দাবায়া রাখতে পারবে না।
বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণরূপে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী অবস্থায় মাথা উঁচু করে উচ্চারণ করেছিলেন, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি বলব ‘আমি বাঙালী। বাংলা আমার দেশ। বাংলা আমার ভাষা। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দেশ এবং দেশের জনগণের মুক্তি ছাড়া অন্য কিছু ভাবেননি। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাই তিনি পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হয়েও বলতে পেরেছিলেন আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। এদেশের মানুষের অধিকার চাই। তিনি বলতে পেরেছিলেন এদেশে যত হিন্দু, মুসলমান, বাঙালী অবাঙালী যত রয়েছে তাদের দায়িত্ব আমাদের।
তিনি রাজনীতিতে হঠাৎ উঠে এসে জুড়ে বসা রাজনীতিবিদদের মতো ছিলেন না। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি। তখন থেকেই ভাবতেন দেশ এবং জনগণকে নিয়ে। বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং যোগ্যতার কারণেই কম বয়সেই দায়িত্ব পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের। তখন থেকেই তিল তিল করে গড়ে তোলেন আওয়ামী লীগের সংগঠনকে। শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত করেন তিনি।

শেয়ার