নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ের মিডিয়া মোগল জিমি লাই গ্রেপ্তার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ হংকংয়ের ধনকুবের ব্যবসায়ী জিমি লাইকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তার সংবাদপত্রের দপ্তরগুলোতেও অভিযান চালিয়েছে তারা।

সোমবার স্থানীয় সময় ভোররাতে পুলিশ তার বাড়ি থেকে লাইকে ধরে নিয়ে যায় বলে তার মালিকানাধীন সংবাদপত্র অ্যাপল ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হংকং পুলিশ জানিয়েছে, নতুন নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করেছে সন্দেহে তারা ৩৯ থেকে ৭২ বছর বয়সী সাত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। এ বিষয়ে আরও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

হংকংয়ের নতুন নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারদের মধ্যে লাই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ৩০ জুন হংকংয়ের জন্য কঠোর এই নিরাপত্তা আইনটি চালু করে বেইজিং, যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো।

লাই চীন শাসিত হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি বিশিষ্ট বক্তা এবং গত বছরের গণআন্দোলনের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। তিনি বেইজিংয়ের একজন কড়া সমালোচক।

যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব থাকা ৭১ বছর বয়সী লাইয়ের বিরুদ্ধে ফেব্রুয়ারিতে বেআইনি সমাবেশ ও হুমকি সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তারপর থেকে জামিনে ছিলেন তিনি।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইম সোমবার লাইকে ‘দাঙ্গার সমর্থক’ হিসেবে বর্ণনা করে তার প্রকাশনাগুলো ‘ঘৃণার প্ররোচণা, গুজব ছড়ানো ও অনেক বছর ধরে হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ ও মূলখ-ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছিল’ বলে উল্লেখ করেছে।

লাইয়ের দুই ছেলেকে এবং তার মালিকানাধীন নেক্সট ডিজিটাল লিমিটেডের দুই জ্যেষ্ঠ নির্বাহীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফেইসবুক পেইজে অ্যাপল ডেইলির করা লাইভস্ট্রিম পোস্টে দেখা গেছে, বহু পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদপত্রটির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছেন। কর্মকর্তারা বার্তাকক্ষজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ফাইল ঘাঁটাঘাঁটি করছেন এবং কর্মীদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলছেন। তারা কয়েকটি কার্যনির্বাহী কক্ষ লাল টেপের ঘেরাও দিয়ে বন্ধ করে দেন।

পরে লাইকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় ওই কার্যালয়ে নিয়ে আসে পুলিশ। এ সময় অ্যাপল ডেইলির একজন সাংবাদিক লাইকে তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে কী ভাবছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “তাদের আমাকে গ্রেপ্তার করতে হতো, আর কী ভাববো আমি?”

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে আদালতের পরোয়ানা আছে। নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী পুলিশ ‘বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়াই’ ওই কার্যালয়ে তল্লাশি, নথি, উপকরণ ও আর্থিক সম্পদ জব্দ করতে পারবে।

অ্যাপল ডেইলির প্রধান সম্পাদক রায়ান ল রয়টার্সকে বলেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে সংবাদপত্রটিকে ভয় দেখানো যাবে না।

‘কার্যক্রম আগের মতোই চলবে,” বলেছেন তিনি।

হংকংয়ের গণতন্ত্রের পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য তদ্বির করতে লাই ঘন ঘন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়েছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। এসব কারণে বেইজিং তাকে ‘বিশ্বাসঘাতকের’ তকমা দিয়েছে।

শেয়ার