করোনায় আক্রান্ত দুই কোটি ছাড়াল

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যুর মিছিলও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৫ জনের প্রাণ গেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।
আর দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও জনের ৩৯ মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯০৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা সোমবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।
ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যুর মিছিলও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। বিশ্বে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৫ জনের প্রাণ গেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।
তবে আশার কথা হল, আক্রান্তদের অধিকাংশই সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ১ কোটি ২৮ লাখ ৯৮ হাজার ২৩৮ জন সুস্থ হয়েছেন।
এদিকে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত সংখ্যা অর্ধকোটি ছাড়িয়েছে। দেশটিতে প্রায় ৫২ লাখ আক্রান্তের মধ্যে প্রাণ গেছে ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি। এদিকে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮২ জনের মতো রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটিতে মারা গেছেন ১ লাখের বেশি। প্রতিবেশী দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ লাখ ১৪ হাজার ১৩৭, আর মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার।
আর দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও জনের ৩৯ মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯০৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা সোমবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।
সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ২ হাজার ৯০৭ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ জন হল।
আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৩৯ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩৮ জনে দাঁড়াল।
আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে গত একদিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৬৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৩৭ জন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তা আড়াই লাখ পেরিয়ে যায় গত ৭ অগাস্ট। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।
প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৮ জুলাই সেই সংখ্যা তিন হাজার স্পর্শ করে। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয় বুলেটিনে, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
সোমবার বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ২ কোটির কাছাকাছি। আক্রান্তের সংখ্যায় ইতালিকে ছাড়িয়ে বিশ্বে এখন পাকিস্তানের পরই পঞ্চদশ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৭ লাখ ৩১ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ২৯তম।

ব্রিফিংয়ে ড. নাসিমা সুলতানা জানান, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের ৩৫ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী। ৩১ জন হাসপাতালে এবং ৮ জন বাড়িতে মারা গেছেন।
তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ছিল আশি বছরের বেশি; ১ জনর বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এছাড়া ৬ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৩ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।
তাদের ১২ জন ঢাকা বিভাগের, ৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৬ জন খুলনা বিভাগের, ৩ জন ময়মনসিংহ বিভাগের, ২ জন বরিশাল বিভাগের এবং ১ জন রংপুর বিভাগের ছিলেন।
নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৩ হাজার ৪৩৮ জনের মধ্যে ২ হাজার ৭২১ জন পুরুষ এবং ৭১৭ জন নারী।
তাদের মধ্যে ১ হাজার ৬২২ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৯৮১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪৭৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২১৯ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৯০ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৩৩ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ১৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।
এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৯ জন ঢাকা বিভাগের, ৮১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২৬৫ জন খুলনা বিভাগের, ২২১ জন রাজশাহী বিভাগের, ১৫৮ জন সিলেট বিভাগের, ১৩৫ জন রংপুর বিভাগের, ১৩৪ জন বরিশাল বিভাগের এবং ৭৫ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ১২ হাজার ৮৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৪৯টি নমুনা। এ পর্যন্ত সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ লাখ ৭৩ হাজার ১৬৮টি।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ, মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

শেয়ার