সংগীত জগতের কিংবদন্তী আলাউদ্দিন আলী আর নেই

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ঢাকাই ছলচ্চিত্রের বহু হৃদয়কাড়া গানের গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী চলে গেলেন সুরের ভুবন ছেড়ে।
মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে তার ছেলে শওকত আলী রানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।
৬৮ বছর বয়সী এই সুরস্রষ্টার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার ভোরে তাকে ইউনিভার্সেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে রাখা হয়েছিল লাইফ সাপোর্টে।
হাসপাতালের পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আলাউদ্দিন আলী ক্যান্সারের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও রক্তের ইনফেকশনে ভুগছিলেন, যেটাকে আমরা সেপটিসেমিয়া বলি। আমরা তার কোভিড-১৯ টেস্ট করেছিলাম, রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছিল।”
২০১৫ সালের জুলাই মাসে ব্যাংককে নিয়ে পরীক্ষা করা হলে আলাউদ্দিন আলীর ফুসফুসে একটি টিউমার ধরা পড়ে। পরে তা ক্যান্সারে মোড় নেয়।
এরপর থেকে অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি তার ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে হচ্ছিল তাকে।
আলাউদ্দিন আলীর জন্ম ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে। তার বাবা ওস্তাদ জাদব আলী ও মা জোহরা খাতুন।
দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে।
১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন। আলতাফ মাহমুদের সঙ্গে বেহালাবাদক হিসেবে যাত্রা শুরু হয় তার।
প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজসহ বিভিন্ন সুরকারের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে বেহালা বাজাতে গিয়ে সংগীত পরিচালনার উপর আগ্রহ সৃষ্টি হয় এই সংগীত পরিচালকের। ১৯৭২ সালে দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা’ গানের মাধ্যমে জীবনে প্রথম সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। প্রায় চার দশক ধরে নিজস্ব ঘরাণার একটি সংগীতের ধারা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন আলাউদ্দিন আলী।

আলাউদ্দিন গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৯), সুন্দরী (১৯৮০), কসাই এবং যোগাযোগ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ১৯৮৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি খ্যাতিমান পরিচালক গৌতম ঘোষ পরিচালিত পদ্মা নদীর মাঝি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।
‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘প্রথম বাংলাদেশ- আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘ভালোবাসা যতো বড়ো জীবন তত বড় নয়’, ‘দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয়’, ‘হয় যদি বদনাম হোক আরো’, ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী’- সহ কালজয়ী অসংখ্য গানে পেছনের কারিগর এই গুণি শিল্পী।

শেয়ার