যশোরের করোনায় মারা যাওয়া নারীর দাফন করল খেদমতে খলক ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ খুলনা বিভাগের ৬৩টি উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত মৃতদের স্বেচ্ছায় দাফন করেছে খেদমতে খলক ফাউন্ডেশন। যশোরের মণিরামপুরের এই প্রতিষ্ঠানটি এই পর্যন্ত করোনায় মৃত ৩০ জনের দাফন সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিধি মেনে এই দাফন কাজ করে আসছে। গতকালও প্রতিষ্ঠানটি করোনায় মারা যাওয়া যশোরের এক নারীর দাফন করেছে। সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুল ইসলামের করোনায় আক্রান্ত স্ত্রী নূর নাহার এদিন মারা যান। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশ ওর্য়াডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাকে দাফনের জন্য অনুরোধ পেয়ে মাওলানা সাঈদ আহমাদের নেতৃত্বে খেদমতে খলকের একটি টিম সেখানে পৌঁছায়। এরপর স্বাস্থ্য-সুরক্ষা বিধি মেনে শরীয়ত সম্মতভাবে তার গোছল ও কাফন সম্পন্ন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মৃত মহিলা গোসল ও কাফন টিমের প্রধান সাইয়্যেদাতুন নাসেরার নেতৃত্বে চার জন ওই নারীর গোসল ও কাফনের কাজ সম্পন্ন করেন। পরে কাফন-দাফন টিমের প্রধান মুহাম্মাদ মাসুম ও অন্যান্যরা দাফন সম্পন্ন করেন। খেদমতে খলক ফাউন্ডেশনের প্রচার বিষয়ক সমন্বয়কারী মুফতি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা যশোর সদরে ৫জন, মণিরামপুরে ১ জন, অভয়নগরে ২ জন, বাঘারপাড়ায় ১ জন, কেশবপুরে ২ জন, শার্শায় ১ জন, খুলনার খালিশপুরে ২ জন, ডুমুরিয়ায় ১ জন, ঝিনাইদহের কোটচাদপুরে ১জন, শৈলকুপায় ১জন, হরিণাকুন্ডুতে ১ জন, সাতক্ষীরার দেবহাটায় ৩ জন, কালীগঞ্জে ১জন, কুষ্টিয়া সদরে ১ জন, খোকসায় ১ জন, মেহেরপুর সদরে ১ জন, চুয়াডাঙ্গা সদরে ২ জন ও দামুড়হুদায় ২ জন। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা আছে। করোনা কিংবা উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেছেন। কিন্তু মৃত ব্যক্তির দাফন কাফনের জন্য কেউ এগিয়ে আসছে না। এমন খবর পেলে তাকে সমাহিত করার যাবতীয় দায়িত্ব কাধে তুলে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য প্রতিষ্ঠানের ০১৯১১-০১৯৭৪৪ এই নাম্বারে ফোন করে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চাইতে হয়।
স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিধি সংক্রান্ত সব ধরণের গাইড লাইন অনুসরণ করে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মরদেহ দাফন করে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে দাফন কাফন সম্পন্ন করা হয়। পিপিই পরে মৃতদেহ গ্রহণ করেন খেদমতে খলকের দাফন-কাফন টিমের সদস্যরা। এসময় দলের সবাই হ্যান্ড গ্লাভস ও সুরক্ষা গগলসসহ (চশমা) অন্যান্য সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করেন। করোনায় মৃতদের দাফন-কাফনের জন্য খুলনার ৬৩টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির ৭০টিম কাজ করছে। করোনা ও উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছায় দাফনের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে থাকে।

শেয়ার