যশোরে অনলাইন পশুর হাটে ব্যাপক সাড়া

 ১ হাজার ৬শ’ ৯৫টি কোরবানির পশু বিক্রি

জাহিদ হাসান
যশোরে অনলাইন পশুর হাটে সাড়া মিলেছে। উদ্বোধনের ১৫ দিনে (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত) এ হাটের মাধ্যমে ১ হাজার ৬শ’ ৯৫টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। যা টাকার অংকে সাড়ে ৮ কোটি টাকার পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (আইসিটি শাখা ও জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান। তবে রাত পোহালেই ঈদুল আযহা হলেও এখনো জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে বেচাকেনা জমে উঠেনি বলে জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন হাটের ইজারাদাররা।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র মতে, চলতি মাসের ১৫ জুলাই করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানি উপলক্ষে যশোরে অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য নানা উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসক। অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম ‘অনলাইন পশুর হাট’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে। যা ১৫ দিনের মধ্যে জেলার মানুষের কাছে হাটটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। পশুর ছবিসহ বর্ণনা ও পশু মালিকের মুঠোফোন নম্বর দিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী দাম হাকিয়েছেন পশুর মালিকরা। ওয়েবসাইট দেখা পশু ক্রেতাদের পছন্দ হলে পশুর মালিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ক্রয় করছেন ক্রেতারা। যা গত ১৫ দিনে যশোরের আট উপজেলায় ফেইসবুক ও ওয়েবসাইটে এই হাটে পশু তথ্যাদি আপলোড হয়েছে ৩ হাজার ৬ শ’ ৪২টি। এরমধ্যে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬শ’ ৯৫টি পশু। গরু ১ হাজার ৪শ’ ৯৬ টি ও ছাগল ১শ’ ৯৯টি। টাকার অংকে ৮ কোটি ৩৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪০৬ টাকা। করোনা পরিস্থিতিতে পশুর হাটে গরু না নিয়ে ঘরে বসেই অনলাইনে গরু বিক্রয় করতে পেরে খুশি খামারিরা। অন্যদিকে অনলাইনে পশু ক্রয় করে খুশি ক্রেতারাও।
অভয়নগর উপজেলার মাগুরা গ্রামের কালিপদ বিশ্বাসের ৩ বছর বয়সী ২৮০ কেজি ওজনের একটি ষাঁড় যশোর জেলা প্রশাসনের অনলাইনে পশুর হাটে ছবিসহ তথ্য দিয়ে আপলোড করেছিলেন। ষাঁড়টির প্রাথমিকভাবে ৬০ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করলেও এক পর্যায়ে তিনি বৃহস্পতিবার ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। এবিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আমার ২টি গরুর ছবি তুলে অনলাইনে পোস্ট করি। এর মধ্যে একটি গরু অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। অনলাইনে আমি গরুটির দাম চেয়েছিলাম ৬০ হাজার টাকা। পরে অনলাইনে পছন্দ করে ক্রেতা আমার বাড়িতে আসেন। বনিবনা হলে ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি আমি। দামে একটু কম হলেও ঝামেলা ছাড়া বিক্রি করায় আমার ভালই হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শফিউল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির পশুর হাটে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে আমরা অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। অনলাইনে পশু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিলো। এছাড়া জেলার ৮ উপজেলায় এসকল প্রাণী বিক্রির জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই জেলায় ২৪টি পশুর হাটে পশু বিক্রয় করা হচ্ছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে বেচাকেনা করেন তার জন্য নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তিনি আরো বলেন, এবার ঈদ উল আযহার কোরবানির জন্য যশোরে পশুর চাহিদা রয়েছে ৬০ হাজার ৫শ’ টি পশু। আর জেলার ১০ হাজার ২শ’ ৮২ খামারিরা কোরবানির জন্য ৬৭ হাজার ৯শ’ ৭৫ টি পশু প্রস্তুত করেছে। সেই হিসাব মতে জেলায় সাড়ে ৭ হাজার কোরবানির পশু বেশি রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা অনলাইন পশুর হাট পর্যবেক্ষণরত দায়িত্বরত কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জানান, জেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে কোরবানি ঈদ চলে এসেছে। কোরবানি উপলক্ষে হাটে কোন রকম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ না হয় সেই লক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনলাইন হাট চালু করা হয়েছিলো। আমরাও অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য ক্রেতা-বিক্রেতাদের উৎসাহিত করেছি। এছাড়াও জেলার স্থায়ী হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে অনলাইন পশু হাট চালু করা হয়েছিলো। যাতে করে মানুষ পশুহাটে না গিয়ে পশু ক্রয় করতে পারে। ইতিমধ্যে অনলাইন পশুহাট মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে। অনেক সচেতন মানুষ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে এ হাটের মাধ্যমে গরু কিনেছেন।

শেয়ার