পবিত্র ঈদুল আযহা কাল

 করোনার মাঝে বাড়িত সর্তকতায় হবে পশু কোরবানি

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বছর ঘুরে মুসলমানদের দুয়ারে আত্মত্যাগ ও খুশির বার্তা নিয়ে আবারো হাজির হয়েছে অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। বিশ্ব মুসলিমের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল আযহা। আগামীকাল শনিবার সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। করোনাভাইরাসের মহামারির প্রকোপে পৃথিবীজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। এর মধ্যেই চলে এসেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহৎ উৎসব- ঈদুল আযহার মাহেন্দ্রক্ষণ। ত্যাগের উৎসব নামে পরিচিত এ দিনটি বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় নানা দেশের সংক্রমণ বিস্তার নিরোধের রীতি মেনেই উদযাপন করতে চলেছেন।
গত মে’তে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। যার ফলে বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত ঈদুল আযহা পালনের চিরায়ত ধরনেও পরিবর্তন আসবে। সারাদেশে এবার ঈদের জামাত হবে মসজিদে। আর পশু কোরবানিতেও থাকবে বাড়তি সতর্কতা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে পালিত হয়ে আসছে ঈদুল আযহা। হযরত ইবরাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানি প্রচলিত হয়েছে। যাকে কেন্দ্র করে ঈদুল আযহার এই উৎসব। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর পূর্বে হযরত ইবরাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.)কে কোরবানি করার ঘটনার স্মরণে কোরবানি প্রচলিত হয়। পুত্র কোরবানির পরীক্ষায় হযরত ইবরাহিম (আ.) উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে খলিলুল্লাহ উপাধি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন প্রতিবছরই পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহপাকের আনুগত্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আদিষ্ট হয়ে প্রতিবছরই পশু কোরবানি করেছেন এবং তার উম্মতের জন্য এ আদর্শ ও প্রথা অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দিয়ে গেছেন। যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব তাদের জন্য কোরবানি করা বাধ্যতামূলক।
কোরবানিকে আল্লাহ এবাদত হিসেবে নির্দেশ করেছেন। পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রদর্শন করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করাটাই উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য যথাযথভাবে অর্জিত হলে কোরবানি করা সার্থক হয়ে থাকে। আল্লাহপাক সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এর (পশুর) গোশত ও রক্ত বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’ কোরবানির জন্য হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের আদর্শ। তিনি পুত্র ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হলে আল্লাহপাক তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে হযরত ইসমাইল (আ.) এর পরিবর্তে হযরত জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে দুম্বা উপস্থিত করেন এবং দুম্বা জবাই হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে যে নজির হযরত ইবরাহিম (আ.) রেখে গেছেন, মানব ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ মিল্লাতে ইবরাহিমের জন্য এক মহান আদর্শ, এ গৌরবের স্তম্ভ। এ উৎসবে ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য যেমন রয়েছে, তেমনি পারিবারিক, সামাজিক ও মানবিক নানা কল্যাণকর দিকও রয়েছে। সৌভ্রাতৃত্ব, ঐক্য সংহতি, বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা সহানুভূতি প্রকাশের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এই ঈদ।
কোরবানি অর্থ ত্যাগ এবং ত্যাগের মহিমার মধ্যদিয়ে সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানি করেন। এই কোরবানির একটি অংশ দরিদ্রদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। ধনী-দরিদ্র সকলেই যাতে সমভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সেজন্য ইসলামে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

শেয়ার