৫০০ উইকেটে ব্রডই কি শেষ পেসার?

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ৫০০ টেস্ট উইকেটে এতদিন ছিল পেস-স্পিন সমতা। স্টুয়ার্ট ব্রডকে দিয়ে পেসারদের পাল্লা হয়ে গেল ভারি। অভিজাত এই ক্লাবের সদস্য এখন চার পেসার, তিন স্পিনার। কিন্তু ভবিষ্যতে তাকিয়ে পেসারদের জন্য আশার ছবিটা অন্ধকার দেখছেন স্বয়ং ব্রড। তার সংশয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টির এই যুগে আর কোনো পেসার কী টেস্টে যেতে পারবেন এতটা দূর!

৫০০ উইকেট পর্যন্ত যেতে ১৪০ টেস্ট খেলতে হয়েছে ব্রডকে। এই মাইফলক স্পর্শ করা প্রথম বোলার কোর্টনি ওয়ালশ ও ব্রডের সতীর্থ জিমি অ্যান্ডারসন, দুজনেরই লেগেছিল ১২৯ টেস্ট। ৫০০ উইকেটে দ্রুততম পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রার লেগেছে ১১০ টেস্ট।

এখনও খেলছেন, এমন বোলারদের মধ্যে ৫০০ উইকেট ছোঁয়ার বাস্তব সম্ভাবনা আছে ন্যাথান লায়ন (৩৯০ উইকেট) ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের (৩৬৫)। তারা দুজনই অফ স্পিনার। এখনকার পেসারদের মধ্যে অ্যান্ডারসন ও ব্রডের পর সবচেয়ে বেশি উইকেট ইশান্ত শর্মার। তবে এখনও তিনশই হয়নি তার (২৯৭), বয়স ৩২ ছুঁইছুঁই। ২৮৪ উইকেট শিকারি টিম সাউদি ও ২৬৭ উইকেট পাওয়া ট্রেন্ট বোল্টের বয়স ৩১ পেরিয়ে গেছে।

ইশান্তকে আপাতত শুধু টেস্ট ক্রিকেটেই খেলাচ্ছে ভারত। তার ক্যারিয়ার লম্বা হওয়ার সুযোগ তাই তাছে। ৫০০ তবু অনেক দূরের পথ। সাউদি-বোল্টরা খেলেন তিন সংস্করণই, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগেও তারা খেলেন।

মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর জন্য ব্রডের সংশয় ভবিষ্যৎ পেসারদের নিয়ে। ব্রডকে যেমন খুব সাবধানে সামলেছে ইংল্যান্ডের বোর্ড। ১৪০ টেস্ট খেলা পেসার ওয়ানডে খেলেছেন মাত্র ১২১টি, টি-টোয়েন্টি ৫৬টি। ৩৪ বছর বয়সী এই পেসার জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ৪ বছর আগে, সবশেষ টি-টোয়েন্টি ৬ বছর আগে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগও খুব বেশি খেলেননি তিনি।
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় উঠতি প্রতিভাবান যে কোনো পেসারের সামনে হাতছানি থাকবে বিভিন্ন লিগে খেলার। টেস্ট ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তাতে যাবে কমে। তাছাড়া বিভিন্ন বোর্ডেরও টেস্টের প্রতি ঝোঁক কমে আসছে ক্রমেই। মাত্র ১৩ বছরেই ১৪০ টেস্ট খেলছেন ব্রড। এই সময়ের মধ্যে এত বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ কি সামনে পাবেন কোনো ক্রিকেটার?

সব মিলিয়েই ব্রড তার ভাবনা তুলে ধরলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে।

“ ৫০০ উইকেট পর্যন্ত যেতে হলে অনেক অনেক টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে। অবশ্যই এমন অনেকে আসবে, যাদের প্রতিভা থাকবে ওই পর্যন্ত যাওয়ার। তবে একজন সিমার এত বেশি টেস্ট খেলতে পারবেন কিনা, সেটিই দেখার বিষয়। বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর লড়াই এখন তুমুল।”

“ টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা কমিয়ে আনার আলোচনও চলছে। আমি সৌভাগ্যবান যে ইংল্যান্ডের হয়ে এমন একটা যুগে খেলেছি, যখন আমরা প্রচুর টেস্ট খেলেছি।”

অন্য কোনো পেসার ৫০০ ছুঁতে পারবেন কিনা, সেই উত্তর আপাতত সময়ের হাতে তোলা। তবে ব্রড নিজের সামনে দেখতে পাচ্ছেন আরও অনেক সময়। এই সিরিজের প্রথম টেস্টের একাদশে জায়গা না পাওয়ার পর খানিকটা সংশয় জন্মেছিল তার মনে। তবে তা ঝেরে ফেলেছেন দ্রুতই। মাঠের পারফরম্যান্সেই প্রমাণ করেছেন নিজের কার্যকারিতা। তিন ম্যাচ সিরিজের দুটি খেলেই হয়েছেন সিরিজ সেরা।

সিরিজ শেষে তিনি জানালেন, আরও অনেক দিন খেলার জ্বালানী অনুভব করছেন নিজের ভেতরে। এজন্য টেকনিক্যালি একটু বদলেছেন নিজের ধরন।
“ সাবেক ক্রীড়াবিদরা সবসময়ই বলেন, তারা জানতেন, কখন বিদায়ের সময় হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে ভেতরের তাগিদ হারিয়ে ফেলেছেন। তবে আমি এখনও তাড়না অনুভব করছি। সপ্তাহ দুয়েক আগে যদিও একটু ভাবনায় ছিলাম। ভাবছিলাম, ‘কোন দিকে যাচ্ছি আমি?’ কিন্তু আমি খুশি যে তখন শক্ত থেকেছি এবং দুই সপ্তাহ পর এখন আমি আরও খুশি।”

“ যে কোনো সময়ের মতোই ভালো বোলিং করছি আমি। গত দেড় বছরে কিছু টেকনিক্যাল কাজ করেছি এবং রান আপে বদল এনেছি। স্টাম্প সোজা আক্রমণ আরও বেশি করছি এখন এবং ব্যাটসম্যানকে যতটা সম্ভব খেলাতে বাধ্য করছি। এই টেকনিক্যাল পরিবর্তন আমাকে রোমাঞ্চকর একটি ধাপে পৌঁছে দিয়েছে।”

সামনে ছুটে চলায় ব্রডের প্রেরণা তার বোলিং জুটির সঙ্গী অ্যান্ডারসন। ৩৮ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন এখনও বেশ কার্যকর। সম্প্রতি জানিয়েছেন, খেলতে চান আরও কয়েক বছর, তার ৫৮৯ উইকেটের সঙ্গে যোগ করতে চান আরও অনেক উইকেট। ব্রডও হাঁটতে চান তার পথেই।

“ জিমি এই ক্ষেত্রে আমার আদর্শ। ৩৮ পূর্ণ হয়েছে ওর। ও এমন একজন, যাকে আমি কাছ থেকে দেখেছি এবং অনেক বছর ধরে আমার কাছের বন্ধু। সে যেভাবে সামলেছে এবং শীর্ষ পর্যায়ে শুধু টিকে থাকাই নয়, নিজেকে পরের ধাপে নিয়ে যেতে যেভাবে স্কিলের উন্নতি করে চলেছে, তা দারুণ।”

“ গত কয়েক বছরে আমাদের দুজনের রেকর্ডই দেখুন, সময়ের সঙ্গে উন্নতি হচ্ছে। আমার ক্যারিয়ার রেকর্ডের চেয়ে গত দেড় বছরের পারফরম্যান্স অনেক ভালো। দারুণ প্রাপ্তি এটি।”

শেয়ার