যশোরে উদ্ধার হওয়া ৫ রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরীকে শরণার্থী ক্যাম্পে হস্তান্তর

পাচারের শিকার হয়ে যশোরের বেনাপোলে উদ্ধার হওয়া ৪ শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর তাদেরকে উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ট্রানজিট পয়েন্টে হস্তান্তর করে। এখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন শেষে ইউএনএইচসিআর-এর সহযোগিতায় তাদেরকে পরিবারে একত্রিকরণ করা হবে। ভারতে পাচারের প্রাক্কালে গত বছরের ১ মে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের হাতে উদ্ধার হয় দুই শিশু। এদের একজন ১৬ বছর বয়সী মেয়ে ও অপরজন ১৪ বছর বয়সের ছেলে। তাদেরকে প্রলোভন দিয়ে ছেলেমেয়ে সাজিয়ে ভারতে নিয়ে যাচ্ছিলেন মুন্সিগঞ্জের রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও ঢাকার জামান খান (৪৮) নামক দুই পাচারকারী। গত ২০ নভেম্বর বেনাপোল দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়ার আগ মুহুর্তে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ উদ্ধার করেন ৩ শিশুকে। এদের মধ্যে ১০ বছর বয়সি একজন ছেলে শিশু, ১৬ বছর বছর বয়সি একজন মেয়ে শিশু ও ১৯ বছর বয়সি এক কিশোরী রয়েছেন। এসময় পাচারকারী চক্রের সদস্য চাঁদপুরের মঞ্জুর আহম্মেদ (৩৯) ও যশোরের আবুল কালামকে (২৮) আটক করেন থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের আদালতে প্রেরণ করলে আদালত ছেলে শিশুদেরকে যশোরস্থ সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে এবং মেয়ে শিশু-কিশোরীদেরকে যশোরস্থ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের শেল্টার হোমে রাখার নির্দেশ দেন। পাচারের শিকার এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু-কিশোরীদের আইনি সহায়তা দিতে তাদের পাশে দাঁড়ায় মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর। সংগঠনটি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশন (ইউএনএইচসিআর)’র সহযোগিতায় ভিকটিমদের পরিবারে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে তাদেরকে জিম্মায় পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করে আইনি যুক্তিতর্ক তুলে ধরে। পরে যশোরের বিজ্ঞ শিশু আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনা-২ এবং বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেনাপোল আমলি আদালত আবেদন মঞ্জুর করে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু-কিশোরীদের পরিবারে হস্তান্তরের লক্ষ্যে তাদেরকে রাইটস যশোর’র জিম্মায় দিয়ে আদেশ প্রদান করেন। এরপর রাইটস যশোর আদালতের সকল দাপ্তরিক কার্য সম্পন্ন করে ২৮ জুলাই শিশুদেরকে কক্সবাজারে নিয়ে ২৯ জুলাই সকালে তাদেরকে উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ট্রানজিট পয়েন্টে হস্তান্তর করে। এসময় শিশু-কিশোরীদের সাথে তাদের উৎসুক অভিভাবকেরা দেখা করেন। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পে ফিরতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুরা, পরিবারের সদস্যরাও শিশুদেরকে ফিরে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। এখানে ১৪ দিন কোয়রেন্টাইন শেষে ১৩ আগস্ট তারা পরিবারের সাথে একত্রিত হবেন। ট্রানজিট পয়েন্টে ভিকটিম হস্তান্তরকালে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি’র ক্যাম্প অফিসার রতন দাস, সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল’র প্রজেক্ট অফিসার অং থোয়াই মারমা, এসিএফ’র প্রকল্প কর্মকর্তা আবু রাসেদ, সিকিরেপ্রে’র সিকিউরিটি ফোর্স অফিসার মিল্টন হাসান, রাইটস যশোর’র পিএইচটিআরভি প্রজেক্ট ম্যানেজার রাফিউল হাসান ও তথ্য কর্মকর্তা বজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার