অত্যাধুনিক পাঁচটি রাফাল যুদ্ধবিমান পেল ভারত

সমাজের কথা ডেস্ক॥ লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফ্রান্সের কাছ থেকে কেনা ৫টি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতে পৌঁছেছে । ২০১৬ সালে ইউরোপীয় দেশটির কাছ থেকে ৩৬টি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছিল নয়া দিল্লি।

তারই অংশ হিসেবে বুধবার প্রথম দফার ৫টি রাফাল জেট হরিয়ানার অম্বালায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

অত্যাধুনিক এ যুদ্ধবিমানগুলো লাদাখে মোতায়েন করা হতে পারে বলে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছে।

ফ্রান্সের দাসো এভিয়েশনের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছরের মধ্যেই ধাপে ধাপে বাকি ৩১টি যুদ্ধবিমানও ভারতে পৌঁছাবে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নতুন এ যুদ্ধবিমানগুলো মোতায়েনের পর ভারতের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা ও মনোবল আরও বাড়বে বলে আশা করছে নয়া দিল্লি।

ভারতের বিমান বাহিনীতে এতদিন যেসব যুদ্ধবিমান ছিল তার বেশিরভাগই সোভিয়েত আমলের। পুরনো হয়ে যাওয়ায় সেগুলো বদলে নতুন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা কয়েক দশক ধরেই চেষ্টা করছিলেন।

চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ৫টি রাফালে জেট ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তি বাড়ালেও এখনি এগুলোকে লড়াইয়ে নামিয়ে দেওয়া যাবে না বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

“পুরোপুরি মোতায়েনের আগে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ চেইন ঠিক করা লাগবে, ভারতের টেকনিক্যাল ও গ্রাউন্ড স্টাফদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে,” বলেছেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল প্রণব কুমার বারবোরা।

অন্তত ১৮টি যুদ্ধবিমান থাকলেই রাফাল স্কোয়াড্রনটি পুরোপুরি কার্যকর হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একটি স্কোয়াড্রনকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে দুই বছর পর্যন্ত সময়ও লাগতে পারে, বলেছেন প্রণব।

বিবিসি জানিয়েছে, দাসোর বানানো ৫টি রাফাল জেট সোমবার ফ্রান্স থেকে রওনা হয়। ভারত পৌছানোর আগে এগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বল্প সময়ের বিরতিও নেয়।

২০০০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকার বিমান বাহিনীর জন্য নতুন যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০০৮ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ১২৬টি বিমান কিনতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং, রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট, সুইডেনের সাব এবং ফ্রান্সের দাসো আগ্রহ দেখায়। পরে সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে দাসোই যুদ্ধবিমান সরবরাহের কাজ পায়।

ভারতীয় প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের সঙ্গে বিভিন্ন শর্তে বনিবনা না হওয়ায় চুক্তিটি পরে অকার্যকর হয়ে পড়ে।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে যুদ্ধবিমান ক্রয়কে অগ্রাধিকার দেয়। পরে তারা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডকে পাশ কাটিয়ে দাসোর সঙ্গে নতুন করে ৩৬টি রাফাল জেট কেনার চুক্তি করে। ৫৯ হাজার কোটি রুপির ওই চুক্তি নিয়ে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সরব হয় কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, রাফাল ক্রয়ে মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে ও জনগণের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে।

তারা জানায়, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে বিমান পিছু খরচ পড়েছিল মাত্র ৫৭০ কোটি রুপি। অন্যদিকে মোদী জমানার চুক্তিতে এক একেকটি রাফাল কিনতে খরচ হয়েছে ১৬৭০ কোটি রুপি, আগের তুলনায় প্রায় তিনগুণ।

এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছিল বিরোধীরা। দীর্ঘ শুনানির পর ভারতের সর্বোচ্চ আদালত রাফাল চুক্তিতে কোনো অসঙ্গতি নেই বলে রায় দেয়।

শেয়ার