মণিরামপুরে কাবিখার চাল বিক্রির মামলায় আটক ব্যক্তির আদালতে জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের মণিরামপুরে কাবিখা’র ৫৫৫ বস্তা চাল বিক্রির মামলায় আটক আব্দুল কুদ্দুস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই চাল উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু নামের একজন ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে বিক্রি করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। গতকাল সোমবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা)’র সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল বিক্রির মামলায় শহিদুল ইসলাম নামে এক আসামিকে এর আগে আটক করা হয়। আদালতে শহিদুলের দেয়া জবানবন্দিতে সরকারি চাল বিক্রির সাথে জড়িত হিসেবে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু ও আব্দুল কুদ্দুসের নাম প্রকাশ পায়। সেই থেকে পুলিশ আব্দুল কুদ্দুসকে খুঁজছিলো। গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার জুড়ানপুর থেকে আব্দুল কুদ্দুসকে আটক করে। আটক কুদ্দুস জুড়ানপুর গ্রামের আকবর মোড়লের ছেলে। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
একটি সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আব্দুল কুদ্দুস বলেছেন, ‘গত ৩০ মার্চ মণিরামপুর খাদ্য গোডাউনের পিছনে কামরুলের দোকানের সামনে আমি (আব্দুল কুদ্দুস), উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, শহিদুল ইসলাম, জগদীশ ও মামুন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শহিদুল, জগদীশ ও মামুনের সাথে উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির কথা পাকা করেন। এরপর গত ৪ এপ্রিল ট্রাকের মাধ্যমে ওই চাল ডেলিভারি দেয়া হয়। তবে চাল সরবরাহের আগে মামুনের চাতাল থেকে উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু ৪ লাখ টাকা নিয়ে আসেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন শহিদুল ও জগদীশ। এর ২/৩ দিন পর মামুন এসে বাকি ৮০ হাজার টাকা উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুর কাছে দিয়ে যান।’
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল মণিরামপুর থানা পুলিশের এসআই তপন কুমার সিংহ উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের ভাই ভাই রাইস মিল অ্যান্ড চাতালে অভিযান চালিয়ে সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল উদ্ধার করেন। এ সময় মিল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ট্রাকচালক ফরিদ হাওলাদারকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মণিরামপুর থানায় মামলা হয়। পরে আটক দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুনের জবানবন্দি থেকে সরকারি চাল বিক্রির সাথে জড়িত হিসেবে শহিদুল ও জগদীশের নাম প্রকাশ পায়। এরপর ডিবি পুলিশ প্রথমে শহিদুল ও পরে জগদীশকে আটক করে। এই দু’জনও আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।

শেয়ার