নড়াইলে কোরবানির পশু কেনাবেচায় অনলাইন’র অ্যাপস উদ্বোধন

নড়াইল প্রতিনিধি ॥ নড়াইলে স্বল্প পরিসরে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু বেচাকেনা। হাট-বাজারে পশু বেচাকেনার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার (১০জুলাই) বিকেলে কোরবানির পশু বেচাকেনার অনলাইন অ্যাপস এর উদ্বোধন হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসমাগম এড়াতে অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে কোরবানির গরু-ছাগল বেচা-কেনায় ক্রেতা-বিক্রেতা আগ্রহী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।
জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের লক্ষ্যে নড়াইল জেলায় ২৪ হাজার ৫শ’ পশু চাহিদার বিপরীতে কোরবানির জন্য ২৯ হাজার ৫শ’৩২টি পশু মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে গরু ১৮ হাজার ৮শ’১টি এবং ছাগল ১০হাজার ৭শ’৩১টি। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ কর্মসূচির আওতায় খামারিদের নিকট বর্তমানে ২৯ হাজার ৫শ’৩২টি পশু মজুদ রয়েছে। যা দিয়ে জেলার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে ৫ হাজার পশু থাকবে অতিরিক্ত। ছোট বড় মিলে জেলার তিন উপজেলায় পশুর খামার রয়েছে ৪ হাজার ১শ’৪৩টি। এরমধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ১হাজার ৩শ’৮৩টি পশুর খামার, লোহাগড়া উপজেলায় ২হাজার ২শ’২২টি এবং কালিয়া উপজেলায় ৫শ’৮৩টি ছোট-বড় পশুর খামার রয়েছে।ছোট বড় মিলে জেলায় পশুর হাট রয়েছে ৬টি।
জেলার মাইজপাড়া, মাদ্রাসা-নাকশী, পহরডাঙ্গা, লোহাগড়া কোরবানির পশুরহাটের ক্রেতা-বিক্রেতা ও ইজারাদারের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির পশুরহাটগুলিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আস্তে আস্তে জমে উঠছে পশু বেচা-কেনা। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্য জেলা থেকে কিছু গরু ব্যবসায়ী এসে স্বল্প পরিসরে গরু কেনা শুরু করেছেন। বাজারে ১১০ থেকে ১২০ কেজি মাংস হবে এমন গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।
নড়াইল পৌরসভার চেয়ারম্যান বাহিরডাঙ্গা এলাকায় গড়ে তোলা খামারি মালিক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, তার খামারে ১৮টি গরু থাকলেও ক্রেতার অভাবে গরুগুলি বিক্রি করতে পারছেন না। করোনা ভাইরাসের কারণে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ন্যায্য দামে গরু বিক্রি না হওয়ার শংকা প্রকাশ করেছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা সমাগম কম হওয়ায় খামারিরা চিন্তিত বলে জানান তিনি। জেলার সদর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের গরু খামারি (কৃষক) প্রদ্যুৎ কুমার ঘোষ জানান, তার খামারে ৯টি বিক্রিযোগ্য গরু রয়েছে। তার খামারে থাকা একটি গরুর দাম হাঁকছেন এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ক্রেতারা দাম করেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।এ রকম দামের আরো দুটি গরু রয়েছে তার খামারে। এবছর কোরবানিকে সামনে রেখে ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম বলে তিনি জানান। করোনা ভাইরাসের কারণে কোরবানির গরু নিয়ে শংকায় পড়েছেন নড়াইলের খামারিরা।
সূত্রে জানা যায়, গরুর পাশাপাশি ছাগলও ঊঠেছে হাট-বাজারে। ১৫ থেকে ২০ কেজি মাংস হবে এমন ছাগল ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার পর্যন্ত দাম করতে দেখা গেছে।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: মারুফ হাসান জানান, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত সময়ে যাতে পশু ক্রয় করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য পশুর হাটের ইজারাদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত বছরের ন্যায় এবছরও জেলায় মোট ২শ’৭০ খামারীকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণীসম্পদ বিভাগের ভ্যাটেনারী সার্জনের নেতৃত্বে ৬টি টিম ১৫জুলাই থেকে হাট-বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার