কেশবপুরের স্থগিত উপনির্বাচন আজ

 ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের কেশবপুর-৬ সংসদীয় আসনের স্থগিত উপনির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ চলবে। ব্যালট পেপার বাদে গতকাল ভোটগ্রহণের অন্যান্য সব উপকরণ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যায়। আজ সকালে ভোট শুরুর আগে সব কয়টি নির্বাচনী কেন্দ্রে পৌঁছেছে ব্যালট পেপার।
জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২ হাজার ১২২ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯৬ জন। ৭৯টি ভোট কেন্দ্রের ৩৭৪ টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে দায়িত্ব পালন করবেন ৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৭৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৭৪৮ জন পোলিং অফিসার।
যশোর নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের জন্য শুধুমাত্র ব্যালট পেপার বাদে সিল, ভোটার তালিকা, কালিসহ মোট ৪৪টি উপকরণ পাঠানো হয় নির্বাচনের আগের দিন। ভোটের দিন সকালে ভোট শুরুর আগে ব্যালট পেপার দেয়া হবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে। ভোটারদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নিরাপত্তার সব ধরনের ব্যবস্থা রেখে ভোটের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। ভোটারদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, পানি ও টিসু পেপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপদ দূরত্বে লাইনে দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর গোলবৃত্ত আঁকা হয়েছে। সেইসাথে ভোট দিয়ে ভোটার যাতে দ্রুত ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেন তার জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ২ জন জুডিসিয়াল ও ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ১৮ টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের ৬টি টিম নির্বাচনের মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া আজ দিনভর নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। থাকবে সাধারণ ছুটিও।
ভোট ঘিরে কেশবপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়েছে। প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি তাদের কেন্দ্রের নাম ও ভোটার নাম্বার স্লিপে লিখে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার নিজ উদ্যোগে ভোটারদের জন্য মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করেছেন। ভোটের মাঠে কর্মী-সমর্থকরা ভোট দিতে আসা মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত থাকবেন।
যশোর জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছে।
তিনি জানান, ৩৭৪টি ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, সিলসহ ভোটগ্রহণের সবরকম সরঞ্জাম গতকাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর সকালে কেন্দ্রগুলোয় ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৫ জন করে পুলিশ ও ১২ জন করে আনসার সদস্য থাকবেন।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সংসদ সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যু হয়। এরপর আসনটি শূন্য ঘোষণার পর বিজ্ঞপ্তি জারি করে উপনির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। ২৯ মার্চ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ থাকলেও করোনার কারণে এক সপ্তাহ আগে ২২ মার্চ ওই নির্বাচন স্থগিত হয়। তফশিল অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আজ কেশবপুরবাসী ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি বেছে নিবেন।

শেয়ার