চৌগাছা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ দু’জনকে হত্যার চেষ্টা

ইয়াকুব আলী/অমেদুল ইসলাম, চৌগাছা ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনের (৩০) বাম পায়ের রগ কেটে ও হাতুড়ি পেটা করে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষরা। হামলায় ছাত্রলীগ সভাপতির দুই পা ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। একই সময়ে তার মোটরসাইকেলে থাকা মিঠুন বিশ্বাস নামে এক যুবকের মাথা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। ইব্রাহিম হোসেন উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল খালেক বিশ্বাস এবং মিঠুন বিশ্বাস একই গ্রামের মাইন বিশ্বাসের ছেলে।
শুক্রবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের চৌগাছা-বেড়গোবিন্দপুুর সড়কের বেড়গোবিন্দপুর বাওড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এই হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চৌগাছার রাজনীতি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রলীগের কর্মী সমর্থকরা।
ছাত্রলীগ নেতা আহত ইব্রাহিম হোসেন জানান, রাত আটটার দিকে তিনি চৌগাছা শহর থেকে নিজ গ্রাম বেড়গোবিন্দপুর যাচ্ছিলেন। চৌগাছা-বেড়গোবিন্দপুর সড়কের বেড়গোবিন্দপুর বাওড় ব্রিজ সংলগ্ন সড়কের একটি বাঁশ ঝাড়ের নিকটে পৌঁছালে সেখানে ওৎ পেতে থাকা ১০/১৫ জন রাম দা, লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের পারভেজ, মহব্বত মল্লিক, রকি, বিপুল মল্লিক ও আলমকে আমি চিনতে পেরেছি। অন্যদের চিনতে পারিনি। তিনি বলেন, আমি দৌঁড় দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে ধরে রামদা দিয়ে বাম পায়ে কোপ দিয়ে রগ কেটে দেয়। অপর পায়েও লাঠি, হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এসময় তাদের দুজন আমার মাথা ঠেসে ধরে রেখেছিল। যেন আমি মরে যায়। আমি মরে গেছি ভেবে তারা আমাকে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসে।
চৌগাছা হাসপাতালে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের উভয়কেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
চৌগাছা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাদিউজ্জামান সিয়াম বলেন, ইব্রাহিমের বাম পায়ের শির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে গেছে। তার দুই পাই ভারী কিছুর আঘাতে ভেঙে গেছে। আর মিঠুনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতার ভাই জাহিদুর রহমান মিলন বাদী হয়ে উল্লেখিত পাঁচজন এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম রেজাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার চৌগাছা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ০৬।
মামলায় অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম রেজার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যানির্বাহী সদস্য আওরঙ্গজেব চন্নু জানান, তার ছেলে ঘটনার দিন শশুরবাড়ি (সম্প্রতি বিয়ে হওয়ায় দশবোদনে) মহেশপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামে অবস্থান করছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার ছেলেকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌগাছা থানার এসআই (উপ-রিদর্শক) শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, সঠিক বলা যাচ্ছে না কি কারণে এঘটনা ঘটেছে। তদন্ত চলছে।
এদিকে, এই হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চৌগাছার রাজনীতির মাঠ। করোনা ভাইরাসের ভীতিকে উপেক্ষা করে শনিবার সকাল থেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরে জড়ো হতে থাকে। সকাল ১০ টার দিকে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চৌগাছা-যশোর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। মুহুর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় এই রুটে যান চলাচল। একে একে স্বাধীনতা ভাস্কার্য মোড়, কপোতাক্ষ সেতুর উপর, চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় চৌগাছার সকল রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ১০ টায় বিক্ষোভ শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘন্টা চলে ১২ টায় শেষ হয়। হঠাৎ করে সড়ক অবরোধ করায় চরম বিপাকে পড়েন ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ। প্রচন্ড রোদ আর গরমে অনেকেই পায়ে হ্েেট গন্তব্যে প্ছৌান। এ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরী কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন ধরনের বাহনকেও সড়কে এ সময় দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয় নেতাকর্মীরা।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান রাজু বলেন, হামলার পর একদিন পার হতে যাচ্ছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত হামলায় অংশ নেয়া কেউ আটক হয়নি। হামলায় অংশ নেয়া সকলকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আটক করতে হবে। অন্যাথায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তিনি হুশিয়ারী দেন।

শেয়ার