যশোরে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের সম্পাদক রাসেল খুন
ডিবি পুলিশের অভিযানে আরো দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাছি দা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ রাসেল হত্যা মামলার আরো দুই আসামিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত গাছি দা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। আটককৃতরা হলো, সদর উপজেলার বড় ভেকুটিয়া গ্রামের ইনছার আলীর ছেলে এনামুল হক ও বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে মফিজুর রহমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাসুম কাজী জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাব্বির আহমেদ রাসেল হত্যা মামলার আসামি এনামুল হককে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মাঠপাড়ার থেকে মফিজুর রহমানকে আটক করেন। এ সময় মফিজুরের কাছ থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি গাছিদা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানিয়েছেন, মফিজুর রহমানকে এই মামলার এজাহারভুক্ত করা না হলেও ইতোপূর্বে আটক দুই আসামির আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তার নাম প্রকাশ পেয়েছে। তাদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে মফিজুর রহমান হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। সাব্বির আহমেদ রাসেলকে খুন করার পর তার কাছে থাকা গাছি দা রেখে দিয়েছিলেন এনামুল হক। ওই গাছিদা মফিজুর রহমানের কাছে পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে আটক এনামুল হক ও মফিজুর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় দু’জনই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে এনামুল হক আদালতে সাব্বির আহমেদ রাসেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর কথা স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া শ্মশানপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ রাসেল। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলায় গুরুতর আহত হন তার বড়ভাই আল-আমিন হোসেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবু সালেক মৃধা বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

শেয়ার