যশোরে ফুটবলার তৈরির কারিগর এমদাদুল হক সাচ্চু’র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

এমদাদুল হক সাচ্চুনিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে ফুটবল তৈরির কারিগর এমদাদুল হক সাচ্চু’র আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে তিনি খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এমদাদুল হক সাচ্চু’র রূহের শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে যশোরবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন সাচ্চু ফুটবল কোচিং সেন্টারের সভাপতি কাওসার আলী ও সাধারণ সম্পাদক এবিএম আখতারুজ্জামান।
১৯৬৩ সালে সালেহ আহমেদের অনুপ্রেরণায় ফুটবল অঙ্গণে আসেন এমদাদুল হক সাচ্চু। শেষ জীবনে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। প্রথমে তিনি খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের একজন ভাল এ্যাথলেটার ছিলেন। এরপর ফুটবলের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ইস্ট বেঙ্গল দলের সক্রিয় ফুটবলার হয়ে ওঠেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল ৩ বছর ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে ১ বছরের জন্য তিনি সিএন্ডবি দলের হয়ে খেলেছেন। পরবর্তী ৩ বছর যশোর টাউন ক্লাবের পক্ষে খেলে সফলতা অর্জন করেন। এরপর তিনি খেলা ছেড়ে প্রশিক্ষক হতে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকায় প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় এ কোর্স সম্পন্ন করেন। কোর্স শেষ করে যশোর সদরের হাশিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি প্রথম কোচিং শুরু করেন। প্রথম বছরেই এ বিদ্যালয় থেকে যশোর জেলা দলে সুযোগ পান অনেক খেলোয়াড়। ১৯৯১ সালে খুলনা বিভাগীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পান এমদাদুল হক সাচ্চু। বিভাগীয় পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় তার দল সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। ওই বছর তার ছাত্র হালিম রেজা, জয়নাল আবেদীন, মান্না দে লিটু ও হারান চন্দ্র দে খুলনা বিভাগীয় ফুটবল দলে সুযোগ পায়। যশোর ইনস্টিটিউট দলকে ওই বছর তিনি মাত্র ৩ মাসের ট্রেনিং করিয়ে খুলনা বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ৩৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে তিনি পুনরায় ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু করেন। সে বছরই ১১ জন খেলোয়াড় সুযোগ পান যশোর জেলা দলে। যার ফলশ্রুতিতে টাউন ক্লাব পরপর ২ বছর জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর এমদাদুল হক সাচ্চু মেয়েদের (প্রমীলা) ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। সোনিয়াকে নিয়ে তার প্রশিক্ষণ শুরু হয়। আজ তার অসংখ্য মেয়ে ফুটবলার নামকরা। ২০১০ সালে তার কাছ থেকে ৯ জন মেয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সুযোগ পায়। সেই ৯ জন মেয়ে মালয়েশিয়ায় খেলার সুযোগ পেয়েছে। সারা বাংলাদেশে মাত্র ৬ জন মেয়ে আমেরিকায় ফুটবলের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছিল। এর মধ্যে তার ৩ জন শিষ্য বেলি, খালেদা ও লিমা ছিল। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এএফসি গার্লস ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ দলের কোচ ও চিফ ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। এ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ দল। তাছাড়া এএফসি ফেয়ার প্লে ট্রফি পায় তার দল। তার ৭ ছাত্রী সাবিনা, খালেদা, বেলি, মলি, সবুলা, সাজেদা ও শারমিন ভারতে গিয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলে। তাছাড়া ৭ জন মেয়ে এসএ গেমসে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। শুধু তাই নয় তার ছাত্ররা বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন একাধিক বার।

শেয়ার