যশোরে বোরো ধানের ভালো দাম পাওয়ায় আউশ’র আবাদ বৃদ্ধি

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ২ হাজার ১শ’ ৯১ হেক্টর জমিতে চাষ

ইমরান হোসেন পিংকু
আউশ ধানের চাষের দিকে ঝুঁকেছেন যশোরের চাষিরা। বোরো ধানের ভালো দাম ও সেচ সুবিধা পাওয়ার কারণে এবার কৃষকরা আউশ চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। বোরো ধান কাটার পরপরই অনেক কৃষক আউশ রোপণ করেছেন। ফলে চলতি মৌসুমে যশোরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ২ হাজার ১শ’ ৯১ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এবার বোরো’র ভালো দাম পাওয়ায় আউশ ধান উৎপাদনে উৎসাহ উদ্দীপনা আরও বেড়েগেছে চাষিদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয় সূত্র মতে, চলতি বছরে যশোরে আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪ হাজার ৮শ’ ২৬ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ১শ’ ৯১ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদরে ১ হাজার ৪শ’ ৮০ হেক্টর, চৌগাছা উপজেলায় ২ হাজার ৬শ’ হেক্টর, ঝিকরগাছা উপজেলায় ২ হাজার ৫শ’ হেক্টর, মণিরামপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৪শ’ ৮০ হেক্টর, অভয়নগরে ৬শ’ ৬৫ হেক্টর, কেশবপুরে ৮শ’ হেক্টর, শার্শায় ৩হাজার ২শ’ ৭০ হেক্টর, বাঘারপাড়ায় ১হাজার ২শ’ ২০ হেক্টর জমিতে এবার আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।
যশোরের চৌগাছার হাকিমপুর গ্রামের চাষি আমির হামজা জানান, তিনি প্রতিবছর পাটের আবাদ করতেন। পাটের বাজার দর ভালো না পাওয়া এবং পাট পচানো পর্যাপ্ত পানি না থাকার কারণে পাটের পরিবর্তে এবার ৪ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছেন। এই আবাদ বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় তেমন পানির খরচ হয় না। তেমনি অল্প দিনের ফসল আউশ ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এবং ধানের বাজারমূল্য বর্তমানে বেশি হওয়ায় তিনি এই আউশ ধানের আবাদ করেছেন।
যশোর সদরের চুড়ামনকাটি পোলতাডাঙ্গা মাঠে বোরো ধান কাটার পরপরই একই জমিতে ৩ বিঘা আউশ ধান চাষ করেছেন আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, এবার বোরো ধানের ভালো দাম পেয়েছি। তাছাড়া এই ধানে সেচ খরচ নেই বললেই চলে। উপরে বৃষ্টিতে প্রায় আবাদ হয়ে যায়। এতে খরচ অন্য ধান চাষের তুলনায় অনেক কম হয়।
মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের কৃষক আলতাপ হোসেন জানান, এ বছর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আউশ ধান রোপণ করেছি। আউশ ধান আবাদে উৎপাদন খরচ কম। পানি সেচ দেয়ার দরকার হয় না। সেইসাথে কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করতে হয় সীমিত। তাছাড়া এবার বোরো ধানের ভালো দাম পেয়ে আউশ ধান চাষে উদ্দীপনা আরও বেড়ে গেছে। ধানের দাম এভাবে থাকলে আগামী বছর আরও বেশি করে চাষ করবেন বলে জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. আকতারুজ্জামান বলেন, অল্প সময়ের আবাদ; উৎপাদন খরচ অন্য ধান আবাদের থেকে কম। সেইসাথে ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা আউশ ধান আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তাছাড়াও এবার বোরো ধানের ভালো দাম পাওয়ায় জেলায় আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে যশোরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ১শ’ ৯১ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ও বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে অনেকটা সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার