যশোরের বন্ধন হাসপাতালের তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর জেল রোডের বন্ধন হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা রোগী ময়না বেগম মৃত্যু ঘটনার মামলায় এক চিকিৎসকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই হায়াৎ মাহমুদ খান চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত আসামিরা হলো, বন্ধন হাসপাতালের চিকিৎসক খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত অশ্বিনী কুমার কুন্ডুর ছেলে ডাক্তার পরিতোষ কুমার কুন্ডু, যশোরের শার্শা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও বন্ধন হাসপাতালের ম্যানেজার আকরামুজ্জামান এবং কুইন্স হাসপাতালের নার্স ও পুলিশ লাইন টালিখোলার শাহ আলম জনির স্ত্রী সুরাইরা খাতুন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত বছরের ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় শহরের পালবাড়ি গাজীরঘাট থেকে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী গর্ভবতী ময়না খাতুনকে কুইন্স হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় কুইন্স হাসপাতালের নার্স সুরাইয়া খাতুন তাদের ভালো চিকিৎসার কথা বলে বন্ধন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ময়না বেগমকে দুইটি পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক পরিতোষ কুমার কুন্ডু জানান বাচ্চা ভালো আছে। বন্ধনের ম্যানেজার এসে তাদের জানান রাতেই সিজার না করলে বাচ্চা মারা যাবে। ময়নার স্বামী ইসমাইল হোসেন সিজার করাতে রাজি না হলেও রাতে ম্যানেজার-চিকিৎসক জোর করে ময়না বেগমকে ওটিতে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিজারের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন ময়না বেগম। এ সময় ওটি থেকে শিশুটিকে পিতা ইসমাইল হোসেনের হাতে দিয়ে চিকিৎসক বাইরে চলে যান। এরপর ময়না বেগমকে ওয়ার্ডে এনে রাখা হয়। কিছু সময় পর ময়না বেগমের খিচুনি শুরু হয়। অক্সিজেন দেয়া হয় ৪০ মিনিট পর। বন্ধনের নার্স এসময় স্বজনদের দ্রুত এক ব্যাগ রক্ত এনে দিতে বলেন। তারা ফিরে এসে দেখেন ময়না বেগম মারা গেছেন। মারা যাওয়ার পরও ময়নাকে রক্ত দেয়া হয়। এরমধ্যে চিকিৎসক এসে একটি অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগীকে দ্রুত খুলনা নিয়ে যেতে বলেন। এরমধ্যে স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে চিকিৎসক ও ম্যানেজার স্বীকার করেন ময়না বেগম মারা গেছেন। চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন ময়না বেগমের স্বামী ইসমাইল হোসেন।
তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

শেয়ার