খুলনায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দুজনের মৃত্যু

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার খানসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া করোনা উপসর্গে আরো দু’জন মারা গেছেন। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
দিঘলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর দাশ জানান, করোনা আক্রান্ত হয়ে দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার খান (৫৮) সোমবার সকাল ৬টায় খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের ফ্লু কর্ণারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত গোলাম সারোয়ার খানের ছেলে কেএম সাদিক হাসান সানি জানান, ৪ জুলাই তার বাবা গোলাম সারোয়ার খানের করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সোমবার সকাল ৬টায় জেনারেল হাসপাতালের ফ্লু কর্ণারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি বরিশাল জেলার আগৈলঝরা উপজেলায়। অপরদিকে হানিফ শেখ (৫০) নামে করোনা আক্রান্ত আরেকজন সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও ফ্লু কর্ণারের মুখপাত্র ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, করোনা আক্রান্ত হানিফ শেখ ২ জুলাই রাত সোয়া ৯টায় করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৬টায় তিনি মারা যান। এনিয়ে খুলনায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে, করোনার উপসর্গে ইমাম হোসেন বাচ্চু (৫৫) ও আবেদ আলী খান (৭৮) নামে আরো দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, সর্দি, জ¦রসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে ইমাম হোসেন বাচ্চু খুমেকের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত বাচ্চু নগরীর রায়েরমহলের সৈয়দ আলতাফ হোসেনের ছেলে।
এছাড়া জ¦র ও শ^াসকষ্ট নিয়ে আবেদ আলী খুমেক হাসপাতালের ফ্লু কর্ণারে ভর্তি ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান। মৃত আবেদ আলী বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার তাপড়া গ্রামের মৃত ইজ্জত আলী খানের ছেলে। করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান ডা. ফরিদউদ্দিন আহমেদ।
এদিকে খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডাঃ শেখ সাদিয়া মনোয়ারা উষা জানান, খুলনায় সোমবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২৫ জনে। এদের মধ্যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ৪৭৪ জন। আক্রান্তের মধ্যে ১ হাজার ৯২৫ জনই মহানগরীর। বাকিরা অন্যান্য উপজেলার। জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৬ জন পুরুষ, ৭০৭ জন মহিলা ও ১৩২ জন শিশু রয়েছেন।

শেয়ার