যশোরে গৃহবধূ খুশির আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার চার্জশিট, স্বামীসহ অভিযুক্ত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদর উপজেলার নওদাগ্রামের খুশিলা খাতুন খুশি নামে এক গৃহবধূকে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি পুলিশ। স্বামীসহ চারজনকে অভিযুক্ত এবং সালেহা খাতুন নামে এক নারীকে অব্যাহতি চেয়ে সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযুক্তরা হলো, যশোর সদর উপজেলার নওদাগ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে ওমর ফারুক, ওমর ফারুকের প্রথম স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং নাটুয়াপাড়া গ্রামের মিন্টু হোসেনের স্ত্রী নাছিমা খাতুন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, খুশিলা খাতুন খুশি মেহেরপুর সদর উপজেলার রামদেবপুর গ্রামের দাউদ হোসেনের মেয়ে। তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। আসামি ওমর ফারুকের স্ত্রী সন্তান থাকা সত্ত্বেও খুশির সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে অপহরণ করে বিয়ে করেন। এরপর সতীনের সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। ওমর ফারুক প্রায়ই তাকে মারপিট করতেন। আর মারপিটের দৃশ্য স্ত্রী খুশি মোবাইল ফোনে তার মা-বাবাকে দেখিয়েছেন। ২০১৯ সালের ১ আগস্ট তাদের এক নিকটাত্মীয় ফোন করে খুশির পিতার বাড়িতে জানিয়েছে খুশিকে পিটিয়ে হত্যার পর ঘরের মধ্যে লাশ ফেলে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। খুশির পিতার বাড়ির লোকজন এসে তার লাশ উদ্ধার করেন।
এ ব্যাপারে খুশির পিতা বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা এবং পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অপহরণ করে খুশিকে বিয়ে করে ছিলেন ওমর ফারুক। এ ব্যাপারে খুশির পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওমর ফারুকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য খুশির উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। খুশিও তার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মামলা তুলে নিতে অনুরোধ করে তার পিতাকে।
এর আগে আসামি ওমর ফারুক সিঙ্গাপুর থাকতেন। সেই সময় তার মাধ্যমে খুশির এক ভাই সিঙ্গাপুর যান। সেই কারণে খুশির পিতার কাছে ওমর ফারুক টাকা পেতেন। এ টাকা না দিয়ে খুশির পিতা ঘোরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ওমর ফারুক তাদের বাড়িতে যাওয়া-আসার মধ্যে খুশিকে তার পছন্দ হওয়ায় কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে বিয়ে করেন। এরপরও সেই পাওনা টাকার জন্য খুশির মাধ্যমে তার পিতার উপর চাপ সৃষ্টি করতেন ওমর ফারুক। এই নিয়ে কয়েকবার সালিশ হয়েছে। কিন্তু টাকা উদ্ধার করতে না পেরে এবং মীমাংসায় ব্যর্থ হওয়ায় খুশিকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিতো আসামিরা। অবশেষে আসামিদের প্ররোচনায় খুশি আত্মহত্যা করেছিল। এ মামলার দীর্ঘ তদন্তকালে ময়না তদন্তের রিপোর্ট, সাক্ষীদের বক্তব্য ও আসামিদের দেয়া তথ্যের যাচাই বাছাই শেষে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সালেহা খাতুনের অব্যহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। অভিযুক্ত সকল আসামি জামিনে আছেন।

শেয়ার