যশোরে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিপুল, এসআই, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে গেলো ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করে যশোরে ৩৮ জন, মাগুরায় ২১ জন এবং সাতক্ষীরা জেলার ১৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানান, বৃহস্পতিবার তাদের ল্যাবে তিন জেলার মোট ২৬৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭২টি পজেটিভ ও ১৯৪টি নেগেটিভ রেজাল্ট দিয়েছে।
এদিকে যশোরে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বিপুল ও তার স্ত্রী টগর মাহমুদ। এছাড়া রয়েছেন সদর পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইনসপেক্টর কাইয়ুম মুন্সীসহ শহরে ও সদর উপজেলায় ২১ জন, অভয়নগর উপজেলায় ৬ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় শিশুসহ ৪জন এবং শার্শা উপজেলায় ৬ জন।
এদিকে যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বিপুল (৪৫) তার ফলাফল পজেটিভ এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৪/৫ দিন আগে তার ও স্ত্রী টগর মাহমুদের (৪১) নমুনা দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ থেকে ফোন করে তাদের দুইজনের নমুনা পজেটিভ আসার খবর দেওয়া হয়।
তিনি জানান, বেশ কিছুদিন তিনি, স্ত্রী ও তাদের একমাত্র মেয়ে (৭) জ্বরে ভুগছিলেন। সন্দেহবশত স্বামী-স্ত্রী নমুনা দিয়ে ছিলেন করোনা পরীক্ষার জন্য। এখন মেয়ের নমুনাও দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তিনজনই মোটামুটি সুস্থ আছি। বিশেষ করে বাচ্চাটা অনেক সুস্থ। তবে স্ত্রীর বুকে খানিকটা ব্যথা আছে।’
দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার সময় থেকেই বিপুল নিজের বাড়ি স্বেচ্ছায় তালাবদ্ধ করে এক প্রকার লকডাউনেই ছিলেন বলে জানান। তবে রিপোর্ট পজিটিভ আসায় শুক্রবার দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন করা হয়নি।
অপরদিকে, সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক কাইয়ুম মুন্সী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকায় বসবাস করেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, সদর উপজেলার অন্যান্য এলাকায় আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন উজির আলী (৫১), সুমন ভক্ত (৩৭), তাপস সাহা (৫২), আল্পনা সাহা (৫০), কাজী রমজান আলী (৩৫), রিয়াদুল ইসলাম (২৫), ইব্রাহিম (৩৯), রাসেলসহ (৩৭) ২১ জন। অভয়নগর উপজেলায় আক্রান্তরা হলেন, গুয়াখোলা ওয়ার্ডে ৬৫ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং ২৩ ও ৫৫ বছরের দুই নারী; বুইকরার ৩৬ ও ৪৮ বছর বয়সী দুই পুরুষ। শার্শা উপজেলায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন ৫০, ২৭, ৩৬, ৪১, ৬৯, ৫৫ এবং ২০ বছর বয়সী ছয় পুরুষ।
ঝিকরগাছা উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে চার বছরের একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। আরো আছেন ওই শিশুর বাবা-মা, যারা দুইজনই চাকরিজীবী এবং সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার এক নারী কর্মী (৪১)। এছাড়া কেশবপুর উপজেলায় আক্রান্ত ব্যক্তি (৩২)। তিনি ওই উপজেলার অফিস পাড়ার বাসিন্দা।
সিভিল সার্জন ডা. আবু শাহীন আরও জানান, নতুন আক্রান্তসহ শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় ৭৪২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৪০জন।

শেয়ার