যশোরে রোগী বাড়লেও বাড়েনি সচেতনতা রেকর্ড শনাক্তের দিনে আক্রান্ত ছাড়ালো ৭শ’

এস হাসমী সাজু
যশোরে গেলো ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলায় সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষায় ৬২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছে যবিপ্রবি জিনোম সেন্টার। এরমধ্যে তিনটি পুরাতন রোগী। নতুন রোগী ৫৯ জন। বৃহস্পতিবার সকালে যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের পরীক্ষণ দলের সদস্য ও এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শিরিন নিগার এই রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এনিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছাড়ালো ৭০১ জনে। প্রতিনিয়ত শনাক্তকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রীতিমতো জেলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পরীক্ষণ দলের সদস্য ও এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শিরিন নিগার জানান, বুধবার প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে যশোর জেলার ২৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬২ জনের এবং মাগুরার ৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ যবিপ্রবির ল্যাবে এদিন সর্বমোট ২৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৬ জনের করোনা পজিটিভ এবং ২০৯ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। পজিটিভের মধ্যে সব থেকে বেশি শনাক্ত হয়েছে যশোর জেলায়।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, যবিপ্রবি ল্যাবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফলে যশোর জেলার ২৪১টি নমুনা পরীক্ষা করে ফলোআপ ৩টিসহ ৬২ জনের পজিটিভ ধরা পড়ে। এর মধ্যে যশোর সদরে ৩টি ফলোআপসহ ৩২ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ৭ জন, শার্শা উপজেলার ৬ জন, অভয়নগর উপজেলায় ৭ জন, চৌগাছা উপজেলায় ৪ জন, কেশবপুর উপজেলায় ৪ জন এবং বাঘারপাড়া উপজেলায় ২ জন নতুন করে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে।

এদিকে বুধবার যবিপ্রবি ল্যাবে যশোর জেলার নতুন করে কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীরা হলেন, পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলাম (৪০), শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা নায়িম (৩১), সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকার দেবদাস বিশ্বাস (৩৩), শহরের পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৮), বারান্দীপাড়া এলাকার শওকত আলী (৫৮), ডা. সালাউদ্দিন খান (৬৬), সাজেদা খাতুন (৫৪), সারা সুলতানা (২২), ওহিদুল (৫৫), টিপু সুলতান (৫১), আজিম উদ্দিন (২২), অলোক (৫০), শহিদুল (৩৪), জামাল (৫০), কাকলি (৩৩), রিয়াজ (৩৪), শাহিন (৫৫), রেজাউল (৩০), হাবিবুর রহমান (৫৫), পলাশ (২৮), আব্দুল ওদুদ (৬৬), রাফি (৪১), খায়রুল (৩৪), ডা. আবুল বাশার (৪৬), মোসলেম আলী (৬০), রিমি খাতুন (৪০), ইভা সুলতানা (২০), ইমরান হোসেন (২৫), বিলকিস (৫৩), করিম (৩৩) এবং হাফিজুর রহমান (৫৬)।

মণিরামপুর উপজেলার সুশান্ত দাস (৪৫), বজলুল রহমান (৪৫), আবু সায়েদ (২৯), সুচন্দা খাতুন (৪২), মিলন কুন্ডু (৫৯), জুলফিকার আলী (৫৯) এবং সিদ্দিকুর ইসলাম (৪২)।
অভয়নগর উপজেলার- গুয়াখোলা গ্রামের বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান (৫৪), মেঘলা (১৬), জেরিন (১৬), আনিকা (২৩) জীবন মিয়া (২৮), উপজেলার বুইকারা গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌসী পারভিন (৫০) এবং লিখন বিশ্বাসের (২৯)।

শার্শা উপজেলার- ওহিদুজ্জামান (২৫), জামাল উদ্দিন (৬০), তাসিম (১৪), সাইফুল ইসলাম (৪৫), সানজিদা রহমান (৩৫) এবং নূরজাহান (৩৩)। কেশবপুর উপজেলার-রাজু (৩২), আব্দুস সবুর (৫৫), জামাল উদ্দিন (৪০) এবং সাকিব হোসেন (৪৫)। চৌগাছা উপজেলার ইসরায়েল হোসেন (৩০), নিয়ামত আলী (৫০), আরিফুল ইসলাম (২৭) এবং কামাল হোসেন (৫৫)। বাঘারপাড়া উপজেলার পৌরসভার এনামুল হক (৩৬) এবং পরিচয় পাওয়া যায়নি শামিম রেজা (৩৯)। নতুন আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনের আওতায় নিয়ে বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন আরও জানান, একদিনে নতুন ৫৯ (পুরাতনসহ ৬২) জনের করোনা শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি এই দিনের জেলার সর্বোচ্চ রেকর্ড। এরআগে একদিনে এতো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। জনসচেতনতামূলক প্রচারণা বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, সচেতনতা ছাড়া নিজে, পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করার আর কোনও উপায় নেই। বর্তমানে যশোরে সামাজিকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

শেয়ার