ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যশোর
বাজারে ৬০ টাকার নিচে সবজি নেই

ইমরান হোসেন পিংকু
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যশোরের কাঁচাবাজারে। এ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খেত-খামার ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ক্ষতির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। এজন্য বাজারে প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় দুই থেকে তিন গুণ। ফলে ক্রেতা সাধারণকে প্রতি কেজি সবজি কিনতে হচ্ছে অন্তত ৬০ টাকার উপরে দাম দিয়ে। আর কিছু দিন গেলে ১শ’ থেকে ১শ’ ২০ টাকা কেজি দরে ক্রেতা সাধারণকে কিনতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন সবজি ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে যশোরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি হিসেবে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৭০টাকা, যা দুসপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে বেগুন ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ২০ টাকা বেড়ে ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস আগের সপ্তাহের তুলনায় আকারভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। মিষ্টি কুমড়া ১০ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে কয়েক দিন আগে কেজিতে বিক্রি হয়েছিলো ৪০ টাকা দরে, তা এখন ৫০ থেকে ৬০টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে কচুর লতি কেজি প্রতি ৩০, উস্তে ও কচুর মুখি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। যা গত দুসপ্তাহ আগে ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছিলো। অন্যদিকে কাঁচা কলা ও পটল ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে কেজি। শসা ১০ টাকা বেড়ে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু দাম অপরিবর্ততো থেকে বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা করে কেজি।
কথা হয় নিউমার্কেট কাঁচা বাজারের বিক্রেতা আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল সকালে আড়তদার কাছে গিয়ে দেখি প্রতি কেজি সবজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা দাম বেড়েছে। তাই সবজি ক্রেতাদের কাছে দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। আমাদের এখানে মালামাল আনার জন্য পরিবহন খরচ, তারপর কয়েক জায়গায় চাঁদাও দিতে হয়। যার প্রভাব পড়ে পণ্যের দামে।
অন্যদিকে ধর্মতলা বউ বাজারের বিক্রেতা ওসমান আলী বলেন অন্য কথা। আম্পানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সবজি বাজারে। প্রতিদিন সবজির দাম কম করে হলেও ৫ থেকে ১০ টাকা করে বাড়ছে। ফলে ১৫-২০ দিন পরে প্রতিটি সবজি কেজিতে ক্রেতাদের কিনতে হতে পারে ১শ’ থেকে ১শ’২০ টাকা করে বা তারও বেশি দামে। কারণ চাষিদের সকল ধরণের সবজি নষ্ট হয়েছে। আর এ কারণে সবজির দাম দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজারে সবজি কিনতে আসা ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ সরদার বলেন, প্রতিদিন কোনো না কোনো সবজির দাম বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এভাবে চললে তো কয়দিন পরে না খেয়ে মরতে হবে। করোনাকালীন সময় লোকজন বাইরে বের হচ্ছে কম। ফলে আগের চেয়ে উপার্জন কমে গেছে। তাই সবজি কিনলে চাল, ডাল, তেল কেনার টাকা আর থাকছে না।