যশোরে করোনা মহামারী মোকাবিলায় সনাক-টিআইবি’র ১৯ দফা সুপারিশ

যশোরে করোনা মহামারী মোকাবিলার মাধ্যমে হাসপাতালে সেবার মানোন্নয়নে ১৯ দফা সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ১৫ জুন টিআইবি কেন্দ্রীয়ভাবে ‘করোনা ভাইরাস সঙ্কট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল ও সুপারিশমালার প্রেক্ষিতে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), যশোর ১৯ দফা সম্বলিত সুপারিশমালা গতকাল যশোর জেলার সিভিল সার্জন (১৮ দফা, ১ম দফা বাদে) এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (১৯ দফা) বরাবর ই-মেইলে প্রেরণ করে। সুপারিশগুলি হলো, (১) ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি ও চাহিদাপত্র প্রেরণ, (২) জেলার সকল হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা, (৩) বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করা (চাহিদা অনুপাতে প্রায় সকলেরই নমুনা পরীক্ষা করা; (৪) সকল স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ (যেমন- নার্সদের সংক্রমণ রোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক (আইপিসি) প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ। পিপিই-এর ব্যবহার, ব্যবহারের পর জীবাণুমুক্ত ও বিনষ্ট করা ইত্যাদি বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে ঘাটতি রয়েছে); (৫) হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, (৬) স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর ও প্রকাশ করা। (৭) হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধি করা; (৮) হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করা; (৯) হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা; (১০) অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংখ্যা বৃদ্ধি করা; (১১) হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা; (১২) সম্মুখ সারির সকল স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মানসম্মত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে নি¤œমানের সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের কারণে স্বাস্থ্যকর্মী সেবা দেয়া থেকে বিরত থাকতে না পারে; (১৩) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ নিশ্চিত করা; (১৪) স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) বর্জ্য বিনষ্টের জন্য প্রয়োজনীয় ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা; (১৫) সঙ্কটাপন্ন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী স্থানান্তরের জন্য পৃথক এ্যামআুলেন্সের সংখ্যা বাড়ানো; (১৬) স্বাস্থ্যবিধির সফল বাস্তবায়নে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণের উদ্যোগ নেয়া; (১৭) তথ্য প্রকাশ এবং তথ্যে প্রবেশগম্যতার সুবিধার্থে ও ম্যানেজমেন্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের স্বার্থে গণমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা; (১৮) নমুনা সংগ্রহের জন্য নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা ও (১৯) পূর্ণাঙ্গ পিপিই সরবরাহ করা (গাউন, গগলস, সার্জিক্যাল মাস্ক, গ্লাভস, সু-কাভার, হেড কাভার, ফেস শিল্ড ইত্যাদি)।
উল্লেখ্য যে, গবেষণার জন্য প্রাপ্ত তথ্য যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার