মুখের ছাপ-রাঙা ঠোঁট- হাসিমুখের নকশাদার মাস্কের চাহিদা তুঙ্গে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ করোনাভাইরাসের চোখরাঙানি যে অচিরেই শেষ হচ্ছেনা তা বুঝে গেছেন অনেকেই। এ রোগ নিয়ে বেঁচে থাকতে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে মানুষ। নতুন এই স্বাভাবিক জীবনে নিত্যসঙ্গী মাস্ক, গ্লাভস তাই এই মাস্ককেই মানুষ এখন ফ্যাশনের অঙ্গ করে নিচ্ছে।
মাস্কে নানা নকশা করে পরতে পছন্দ করছেন অনেকে। তাতেই চাহিদা বাড়ছে বাহারি ডিজাইনের ফ্যাশনেবল মাস্কের। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় এই ফ্যাশন মাস্কের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
ইন্দোনেশিয়ায় মানুষজন অর্ডার দিয়ে নিজের পছন্দমত বিভিন্ন নকশার মাস্ক তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে পুণর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়ে নিজের মুখের ছাপাঙ্কিত মাস্কের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
অনেকে মাস্কের ওপর হাসিমুখের নকশা করিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার লাল রঙের বড় ঠোঁট আঁকা মাস্কের বায়না দিচ্ছেন। এভাবে যার যার মাস্কে তার নিজের মুখের ছাপ দিয়ে মাস্ক বানানো চলছে।
করোনাভাইরাসের কারণে জাকার্তায় একটি প্রিন্টিং-এর দোকানে ব্যবসা মন্দা চলতে শুরু করার পর দোকনটি ডিজাইনার মাস্কের ব্যবসায় নামে। এখন তাদের এ ব্যবসাই চলছে রমরমিয়ে।
ক্রেতারা অনলাইনে নিজেদের ছবি পোস্ট করছেন। সেখান থেকে ছবি আপলোড করে সরাসরি তা ছাপানো হচ্ছে। ৩০ মিনিটেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে মাস্ক। যার দাম পড়ছে ৩.৫০ ডলার। এতেই ব্যবসা চলছে ভাল।
মাস্কের ব্যবসায় নামা নিকোলাস সেপ্টিয়ান বলেন, “প্রথমে আমরা একটু দ্বিধায় ছিলাম। তারপর দেখলাম মাস্কের চাহিদা বেড়ে গেছে। এই মাস্ক ব্যবসাই আমাদেরকে লোকসানের হাত থেকে বাঁচিয়েছে।”
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও অনেকে ঝুঁকছে নকশাদার ফ্যাশনেবল মাস্কের দিকে। করোনাভাইরাসে কাজ হারানো ফিলিপিনো চিত্রশিল্পীরা এখন বানাচ্ছেন হরর (ভুতের) মাস্ক, আবার থাইল্যান্ডেও কোনো কোনো শিল্পী ফেসমাস্কের ওপর কার্টুন এবং মুভি ক্যারেক্টার আঁকছেন।
মালয়েশিয়ায় বাটিক ডিজাইন খুবই জনপ্রিয়৷ যদিও সেখানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক নয়৷ তবুও শিল্পীরা এ নকশার মাস্কের বায়না পাচ্ছেন। বাটিক নকশার ফেস মাস্কের কারবারে এখন তাই নতুন সম্ভাবনা দেখছেন মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা। মালয়েশিয়ায় কাপড়ের ওপর যারা নকশা করেন, তারাও এখন নরম তুলা দিয়ে বানানো মাস্ক তৈরি করছেন বিভিন্ন নকশায়।

শেয়ার