বাঘারপাড়ায় প্রাইভেটকার চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করলো যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী বরকতুল্লাহ


রোববার বিকালে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নিহত হন মাইক্রোচালক মোহাম্মদ রিপন (৩০)। যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙ্গে লিটন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সাইদুর রহমান রিপন ওরফে ডিম রিপনের প্রধান সহযোগী একাধিক মামলার আসামি বরকতুল্লাহ তাকে প্রকাশ্য হত্যা করে। কিছুদিন আগে সেই বরকতুল্লাহই ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন যশোর সদর আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের বাঘারপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় রিপন হোসেন (৩০) নামে এক প্রাইভেটকার চালক ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন পৌরসভা এলাকার মহিরন গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। এঘটনায় বরকতুল্লাহ খান নামে এক সন্ত্রাসীকে গণধোলাইয়ের পর পুলিশের দিয়েছে স্থানীয়রা। গণধোলাইয়ের শিকার বরকতুল্লাহ যশোর শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়া মৃত মাহফুজুর রহমানের ছেলে এবং যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের পোষ্য ক্যাডার। তার বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা, চাঁদাবাজি, বোমাবাজি, ছিনতাই, হত্যা ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

এদিকে প্রাইভেট চালক রিপন খুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এদিন বিকেলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ডিএসবিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অপরদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে খুনি বরকতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর ১টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মাইক্রোস্ট্যান্ডে বরকতুল্লাহ খান নামে ওই সন্ত্রাসী ও তার কথিত স্ত্রী পিংকি খাতুন গাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রাইভেটকার চালক রিপনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওই সময় তাদের কাটাকাটির একপর্যায়ে বরকতুল্লাহ খানের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে রিপনের বুকের বামপাশে আঘাত করে। ঠেকাতে গিয়ে সেখানকার ওষুধ ব্যবসায়ী হিরুও ছুরিকাঘাত হন। স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে তাদেরকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। এরমধ্যে রিপনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হিরু বাঘারপাড়া থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আহত ওষুধ ব্যবসায়ী হিরু মিয়া আহমেদ জানিয়েছেন, হাসপাতাল গেটের সামনে মোটরসাইকেলে বরকত ও ভ্যানে থাকা একটি মেয়ে কথা বলছিল। পরে দেখি স্ট্যান্ডের ড্রাইভার হাসিবুলের সাথে ও বরকত উচ্চস্বরে কথা বলছে। বরকত হঠাৎ করে হাসিবুলকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। পরে স্ট্যান্ডের অন্য চালকদের সাথে রিপনও এগিয়ে যান। তারা কি কারণে হাসিবুলকে মারধর করছে জানতে চাইলে বরকত ক্ষিপ্ত হয়ে কোমরে থাকা ছুরি বের করে। সেই সময় আমিও (হিরু) দোকান থেকে বের হয়ে ঠেকাতে যান। আর বরকত ভিড়ের মধ্যে হিরুর বামহাতে ছুরিকাঘাত করে। তাকিয়ে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় রিপন পড়ে আছে। সেই সময় উত্তেজিত কারচালকরা এবং স্থানীয় লোকজন বরকতকে ধরে বেদম মারপিট করে। পুলিশ এসে অভিযুক্ত বরকত ও তার কথিত স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যায়।

এই ব্যাপারে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আল মামুন বলেন, কি কারণে রিপনকে ছুরিকাঘাত করা হয়-তা এখনও জানা যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী বরকতকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বরকতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় পুলিশের উপর হামলা, চাঁদাবাজি, বোমাবাজি, ছিনতাই, হত্যা ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরকত ইতিপূর্বে সদর ফাঁড়ি পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য এব্যাপারে পুলিশকে ম্যানেজ করতে সদর ফাঁড়ির এটিএসআই ভোলা নাথকে একটি পালসার মোটরসাইকেল গিফট করেছেন। তাছাড়া মণিহার এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বোমাবাজি যেন তার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। একেএকে বিয়ে করেছেন চারটি। সোনিয়া, তাসলিমা, আশা ও পিংকি নামের এই চারজনকে বিয়ে করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে জানা গেছে। দ্বিতীয় স্ত্রী তাসলিমাকে যৌতুক দাবিতে মারপিটের ঘটনায় গত ১৭ জুন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় বরকত বর্তমানে আইনের চোখে পলাতক রয়েছে।

এছাড়া যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের পোষ্য ক্যাডার হিসেবে ও পরিচিত বরকত। সে কারণে তার সহযোগি ফিঙে লিটনের ছোট ভাই সাইদুর রহমান ডিম রিপন, ভগ্নিপতি মাসুদুর রহমান নান্নু, সেলিম পলাম, সিরাজুল ইসলাম সিরু, সিরুর ছেলে জিতু, সেতু, শক্তি, নান্নুর ভাই পান্নু, বাবু, লাভলু, মশিয়ারের ছেলে নাইস, তাদের অন্যতম সহযোগি পাউডার মোমিন, বুনো মিন্টু, বেড়ে মাসুদ, জনি, মারুফ, ফারুক, লম্বা সিপন ও কাজিপুরের ম্যানেজার মিন্টুসহ কয়েক ডজন সন্ত্রাসী মণিহার, বারান্দীপাড়া, নীলগঞ্জ, বকচরসহ বেশ কিছু এলাকায় তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড চাউর করে বেড়ায়।

শেয়ার