বাগেরহাট সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম বিকল

* ১৪ দিন পর এলো ২৬ জনের পরীক্ষার ফল
* ২৪০টি এখনো পেন্ডিং

বাগেরহাট সদর হাসপাতালমোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট ॥ বাগেরহাট জেলায় প্রাণঘাতি করোনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে অতিবিলম্ব হওয়ায় সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে নমুনা পাঠানোদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠাও দেখা দিচ্ছে।
খুলনা ও যশোর পিসিআর ল্যাবে পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করে বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলায় রবিবার পর্যন্ত ১০৬ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। এরমধ্যে নমুনা পাঠানোর ১৪ দিন পর রিপোর্ট এসেছে ২৬ জনের। এখনও ফলাফলের অপেক্ষায় ২৪০ নমুনা। পিসিআর ল্যাবে ফলাফল পেন্ডিং থাকায় আক্রান্তরা অজান্তে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। সময়মত রিপোর্ট না আসায় যেসব রোগীদের নেগেটিভ রির্পোট আসছে তারাও অহেতুক দীর্ঘ সময় কোরেন্টাইনে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের সেন্টাল অক্সিজেন সাপলাই সিস্টেম বিকল থাকায় হাসপাতালের ৫০ শষ্যার কোভিড ইউনিট নিয়ে বিপাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পিসিআর ল্যাবে ফলাফল অতিবিলম্বে পাওয়ায় ও বাগেরহাট সদর হাসপাতালের সেন্টাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম বিকল থাকায় উদ্বিগ্ন বাগেরহাটবাসী।
ফকিরহাট উপজেলার ২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হলে পরীক্ষার ফলাফল ১৪ দিন পর পৌছায় বলে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: অসীম কুমার সমাদ্দার নিশ্চিত করেন।
এদিকে গত ১ জুন কলেজ শিক্ষক সালমান বিশ্বাস তার কর্মস্থল থেকে চিতলমারীর গ্রামের বাড়ি আসেন। করোনা উপসর্গ থাকায় ২ জুন তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ১২ দিন পর করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে বলে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন হাসান নিশ্চিত করেন।
বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানাযায়, বাগেরহাট জেলায় গত ১৪্ এপ্রিল চিতলমারীর পাটরপাড়া গ্রামের কবিরুল মোল্লা নামে প্রথম একজনের পজেটিভ রিপোর্টের মধ্যদিয়ে করোনা আক্রান্ত শুরু হয়। ১৪ এপ্রিল থেকে ১২ জুন পর্যন্ত ৩০ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৩ জন। ১৩ জুন হঠাৎ করে একদিনে ১৭ জনের পজেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর ১৩ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্তÍ মাত্র ৯ দিনে ৬৩ জনের পজেটিভ রিপোর্ট আসে। জেলায় রবিবার পর্যন্তÍ মোট ১ হাজার ৮ শ ২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে.এম হুমায়ুন কবির বলেন, বাগেরহাট সদর হাসপাতালের সেন্টাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপনের পর খুব একটা ব্যবহার না হওয়ায় এখন এটা চালু করতে গিয়ে কিছু ত্রুটি দেখা দেয়। ইতিমধ্যে এ বিষয় উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লেখা হলে একটি এক্সপাট টিম অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম পরিদশন করে ত্রুটি নিনয় করেগেছে। টেকনিক্যাল টিমের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই এটি সচল হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, রবিবার পর্যন্ত বাগেরহাট জেলার করোনা সন্দেহে পরীক্ষা করতে পাঠানো নমুনার ২৪০টি পেন্ডিং আছে। আশা করছি এগুলোর ফলাফল শীঘ্রই পেয়ে যাব। এ জেলার করোনা পরীক্ষার নমুনা খুলনা ও যশোরে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে ক্রমশ: পরীক্ষার চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কখনও কখনও ফলাফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এখন খুলনা পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার চাপ থাকায় পরীক্ষার জন্য যশোরে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে এবং এখন নিয়মিত রিপোট পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব বলেন, এ জেলায় পিসিআর ল্যাব না থাকায় অত্যন্ত ভোগান্তি ও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রাণঘাতি করোনার চিকিৎসার জন্য অক্সিনের কোন বিকল্প নেই।বাগেরহাট সদর হাসপাতালের সেন্টাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিষ্টেম বিকল থাকা উদ্বেগজনক। জরুরী ভিত্তিতে অক্সিজেন সাপলাই সিষ্টেম সচল করার দাবী জানান তিনি।
বাগেরহাট বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ড. মোশারেফ হোসেন বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফলপেতে বাগেরহাটে পিসিআর ল্যাব স্থাপন অত্যান্ত জরুরী এবং এটা এখন সময়ের দাবী। করোনা চিকিৎসায় অক্সিজেনের গুরুত্ব বিবেচনা করে জরুরী ভাবে হাসপাতালের অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম সচল করার দাবি জানান।
বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বাগেরহাট সদর আসসের সংসদ শেখ সারহান নাসের তন্ময় বলেন, বাগেরহাটে পিসিআর ল্যাব না থাকায় এবং খুলনা ও যশোর ল্যাবে অতিরিক্ত চাপ থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে এ জেলায় দ্রুত পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে, বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার