প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৫ হাজার টাকা পেতে যশোরে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনাকালে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুদানের প্রাপ্য টাকা পাওয়া নিয়ে যশোরের অনেক স্থানে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে মসজিদের উন্নয়ন অনুকূলে বরাদ্দ শব্দটি যুক্ত করে টাকা বিতরণ করায় অনেক মসজিদের ফান্ডে ওই অর্থ রাখা হয়েছে। ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা ওই অর্থ পায়নি বলে দাবি করেছে যশোর জেলা ইমাম পরিষদ। সংগঠনটির ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য ৫ হাজার টাকা দিলেও অনুদান বণ্টন প্রক্রিয়াটি ঘোলাটে করে ফেলেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
যশোর ইমাম পরিষদের তথ্য মতে, করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের ২৪ হাজার ৪শ’ ৪৩টি মসজিদের জন্য একশ বাইশ’ কোটি দুই লক্ষ পনে হাজার টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাঁচ হাজার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের চিঠিতে মসজিদের ‘অনুকূলে’ শব্দের পরিবর্তে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপপরিচালক মসজিদের ‘উন্নয়ন’ শব্দ স্থাপন করায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার ও ইউনিয়নের মসজিদ কমিটির মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনেক মসজিদের ফান্ডে ওই অর্থ রাখা হচ্ছে। এছাড়াও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদের তালিকায় যশোর পৌরসভার মসজিদের সংখ্যা উল্লেখ করেছে ১০৫টি। অথচ জেলা ইমাম পরিষদের হিসেবে মসজিদের সংখ্যা রয়েছে পৌরসভায় ১৬৬টি। অন্যদিকে সদর উপজেলার মসজিদের সংখ্যার প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ মসজিদ এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার ইমাম পরিষদ যশোরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল করিম এবং সেক্রেটারি মাওলানা বিলায়েত হোসেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, স্বাধীনতার পরে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের করোনাভাইরাসের মধ্যে সাহায্য করেছেন। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে এই অনুদানের টাকাটা সঠিকভাবে পাচ্ছেন না ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদের ‘অনকূল ও উন্নয়ন’ শব্দ যুক্ত করে দেওয়ায় বরাদ্দ পেতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের দুর্ভোগ পেতে হচ্ছে। অনেক স্থানে মসজিদ কমিটি ওই অর্থ ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের না দিয়ে মসজিদের ফান্ডে রাখছে। এতে হতাশ হয়েছেন ইমাম পরিষদ যশোরের নেতৃবৃন্দ।
এবিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপপরিচালক সৈয়দ আব্দুল মঈনের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে ফিল্ড অফিসার আব্দুর রশিদের মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

শেয়ার