চৌগাছায় পরকীয়ার জেরে প্রাণ গেল যুবকের

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় অপহরণের তিনদিন পর যুবক বিপুল হোসেনের (৩৫) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেড়গোবিন্দপুর বাওড় সংলগ্ন মুলিখালি বটতলা এলাকার একটি ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই উপজেলার কাকুড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শামসুল হকের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার হিজলী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আবু সামার স্ত্রী ফুলবানুর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বিপুল হোসেনের। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার গরু কিনতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে মোটরসাইকেলে বিপুল হোসেনকে তুলে নিয়ে যায় ফুলবানুর ছেলে সবুজ হোসেন ও মেয়ের জামাই রফিকুল ইসলাম।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানাগেছে পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী ফুলবানুর সঙ্গে বিপুল হোসেনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। দুই মাস আগে তাদের পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার ফুলবানুর ছেলে সবুজ ও জামাই রফিকুল গরু কেনার কথা বলে কৌশলে বিপুলকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ ফেলে দিয়েছে। শুক্রবার সকালে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার শিমুল হোসেন ও নিহতের ভাই লিটন হোসেন জানান, বুধবার সকাল দশটার দিকে আবু সামার মেয়ের জামাই রফিকুল ইসলামকে গরু কেনার নাম করে বিপুল হোসেনকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়। আবু সামার স্ত্রীর ফুলবানুর সাথে বিপুলের দীর্ঘদিন ধরেই পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর তিনটা পর্যন্ত বিপুলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে রিং বাজলেও কেউ ফোন ধরেনি। এসময়ে বিপুলের খোঁজ না পেয়ে আবু সামার জামাই রফিকুলের নিকট বিপুলের পরিবারের লোকজন ও গ্রামের লোকজন জানতে চাইলে সে বলে গরু কিনতে পুড়াপাড়া বাজারে গেছে। রাতেও বাড়িতে না ফিরলে আবারো তারা রফিকুলের নিকট জানতে চাইলে সে বলে হয়ত চৌগাছায় আছে। এরপর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি সদস্য শিমুল হোসেনসহ পরিবার চৌগাছা থানায় গিয়ে নিহতের ভাই লিটন হোসেন পরকীয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে রফিকুলের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে ডায়েরি করার জন্য লিখিত অভিযোগ দেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) এসএম এনামুল হক তখনই কারো বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না দিয়ে আরো খুঁজাখুজি করার জন্য তাদের পরামর্শ দেন। একইসাথে বৃহস্পতিবার দুপুরেই ওসি (তদন্ত) এসএম এনামুল হক ওই গ্রামে গিয়ে তদন্ত করে আসেন। তবে তদন্ত করে আসলেও থানায় জিডি এন্ট্রি করা হয়নি। পরে শুক্রবার ভোররাতে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে নিহতের শ্বশুর আমজাদ হোসেনের মেবাইল ফোনে কল দিয়ে বলা হয় তোমার জামাইয়ের লাশ বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের পাশে রাস্তায় বস্তাবন্দি পড়ে রয়েছে। শুক্রবার খুব সকালেই পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে দুর্গন্ধযুক্ত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।

শেয়ার