মানুষকে রক্ষার প্রাণপণে চেষ্টা করছি: প্রধানমন্ত্রী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় সরকার ‘প্রাণপণ’ চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বাংলাদেশে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এই করোনাভাইরাস থেকে আমাদের দেশের মানুষকে রক্ষা করতে। তবে যেহেতু অর্থনীতি একেবারে স্থবির অবস্থায় রয়েছে, আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখন উন্মুক্ত করছি, কারণ মানুষকে আমাদের তো বাঁচাতে হবে।”
অর্থনীতি সচল করতে না পারলে সরকার যে অনির্দিষ্টকাল মানুষকে সহযোগিতা দিয়ে যেতে পারবে না, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারপরও আমি বলব, আমরা এই কয় মাস এদেশের প্রায় প্রতি স্তরের মানুষকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করে গিয়েছি।”
সরকারের পাশপাশি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং সমাজের বিত্তশালীরাও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের মাঝে এই আন্তরিকতাটা আছে দেখেই কিন্তু এখনো আমাদের দেশের মানুষ অন্ততপক্ষে খেতে পারছে বা তারা চলতে পারছে।
মানুষের জন্য মানুষের এই সহানূভূতি অব্যাহত থাকবে, সেই প্রত্যাশাই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতা দিতে সরকারের উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিনা পয়সায় খাদ্যের ব্যবস্থা যেমন করেছি, আবার একটু যারা সঙ্গতি আছে, কিনতে চান, তাদের ১০টাকা কিলো দরে আমরা চাল দিচ্ছি।
“আমরা সাধারণ নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা খেটে খাওয়া মানুষকে সহযোগিতা দিচ্ছি। বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী, যেমন শ্রমিক থেকে শুরু করে… দিনমজুর থেকে শুরু করে ছোটখাটো কাজ যারা করেৃ তাদেরকে আমরা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। “
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল করতে সরকারের দেওয়া বিশেষ প্রণোদনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের শিল্প থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সবাই যেন কাজ চালাতে পারে, সেজন্য বিশেষ প্রণোদনাও আমরা দিচ্ছি। আমাদের জিডিপির ৩.৭ শতাংশ আমরা প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি।
“এখানে বলতে হবে যে গত ৩-৪ মাস ধরে আমাদের অর্থনীতি একেবারে স্থবির। তারপরও আমরা অন্ততপক্ষে মানুষের কথা চিন্তা করে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই কাজ করে যাচ্ছি।”
শেখ হাসিনা বলেন, “এটা মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। সব সময় জনগণের কল্যাণেই আমরা কাজ করি।
“কাজেই আমরা জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এইটুকু বলব যে তিনি আমাদের যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন- মানুষের জন্য মানুষ- আমরা সেভাবেই কাজ করে যাই।“
করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে জনগণের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই যে সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান স্থগিত করেছিল, সে কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, করোনাভাইরাস মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে যখন মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাটাই মুখ্য, সেই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশের জনগণ ঘরে বসেই অধিকাংশ কাজ করতে পারছে। আওয়ামী লীগ সরকার তার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে বলে স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই প্রসঙ্গ টানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানেন যে, ২০০৮ সালে আমরা যখন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করি তখন বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করব এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। আজকে আমি বলব, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করতে পেরেছি বলেই আমাদের অনেক কাজ সহজ হয়েছে।
“যেমন মানুষকে সহযোগিতা দেওয়া, তাদের কাছে নগদ টাকা পৌঁছানো, তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া বা ঘরে বসে চিকিৎসা পরামর্শ যাতে পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা, ব্যবসা বাণিজ্য চালানো, ক্রয়-বিক্রয়, আত্মীয় স্বজন বা আপনজনের সঙ্গে কথা বলা, দেখা সাক্ষাৎ, চিকিৎসা সেবা অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে আমরা করে যাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কাজেই ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণেই কিন্তু এটা সম্ভব হচ্ছে। আমরা যদি এই ডিজিটাল বাংলাদেশ না করতাম, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যদি উৎক্ষেপণ না করতাম এবং বাংলাদেশটা যদি একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে না আসত তাহলে হয়ত এটা সম্ভব হত না। কাজেই ডিজিটাল করেছি বলে এটা সম্ভব হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান দিতে আসা সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনারা এই যে আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন, সহানুভূতি দেখাচ্ছেন সেজন্য আপনাদেরকে আমি জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
সবার কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে সরকারের প্রচেষ্টা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রত্যেকটা শ্রেণি-পেশার মানুষ সকলের কাছে যেন কিছু না কিছু আমরা সহযোগিতা পৌঁছাতে পারি যেন তারা কষ্ট না পায়- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের সমস্যা। এই ভাইরাস সংক্রমণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণসহ যে কোনো সংকট মোকাবেলার আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যে কোনো বিপদ আসুক আর যে কোনো সমস্যা আসুক সেটা নিশ্চয়ই আমরা মোকাবেলা করতে পারব।”
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাত্র কিছু দিন আগে এইদিকে করোনাভাইরাস ওইদিকে আসল আবার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস। আর এই সময়টাতো এমনিতেই আমাদের প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়ের সময়।
“আমাদের বাংলাদেশে ছয়টা মৌসুমে আসে। কাজেই আমাদের এই সমস্যাটা তো আছেই। সামনে আবার বর্ষাকাল আসবে। সেখানে নদীভাঙনে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি। ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি এবং বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।”
করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় ‘আন্তরিকতার সঙ্গে’ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থানটা অনেকটা আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। তবে বর্তমান বিশ্ব হচ্ছে গ্লোবাল ভিলেজ। কেউ একলা চলতে পারে না। আবার এক জায়গায় কিছু হলে অন্য দেশে সেটা সংক্রমিত হয়। এবং সেইভাবেই আমরা কিন্তু সংক্রমিত হয়েছি।
“কাজেই আমরা তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত করতে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা, তাদের অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল করা, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া সব দিক থেকেই যেন আমরা কাজ করতে পারি। সেজন্য সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাই যে আপনারা এই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের কাজে লাগবে।”

শেয়ার