যশোরের সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল’র আকস্মিক মৃত্যু

 সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-লেখালেখির জগৎ ছাড়াও শ্রমিক আন্দোলনে অতি পরিচিত মুখ মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল (৬০) মারা গেছেন। সম্প্রতি তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ার এক মাস এক সপ্তাহ পর রোববার রাত নয়টার কিছু সময় আগে ঢাকায় মারা যান। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে-মেয়ে, মাসহ বহু শুভাকাঙক্ষী ও অনুসারী রেখে গেছেন। তার মেয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ছেলেও পড়ছেন ঢাকায়।
মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামে জন্ম নেওয়া কাবুল জনতা ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেই সূত্রে যশোর শহরের বারান্দিপাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন তিনি। প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান কাবুলের এ অঞ্চলে রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। কাবুল ওয়ার্কার্স পার্টির (মেনন-বাদশা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ছিলেন নান্নু চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের গভর্নিং বডির সদস্য। যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির দুই বার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাকে যশোর শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া গোরস্থানে দাফন করা হয়। গতকাল সোমবার বাদ জোহর স্থানীয় বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে রোববার রাত নয়টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (পিজি হাসপাতাল) থেকে তার লাশ যশোরের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন স্বজনরা। সোমবার সকালে তার মরদেহ যশোর শহরের বারান্দিপাড়ার বাসভবনে এসে পৌঁছায়। কিছু সময় পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কাবুলের মরদেহ শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কে নান্নু চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে সকাল দশটায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পার্টির পতাকা দিয়ে কফিন আচ্ছাদিত করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, দীপঙ্কর সাহা দীপু, ফাইজুল হক কিসল, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকী ও কেন্দ্রীয় বিকল্প সদস্য সবদুল হোসেন খান। এরপর মরদেহে একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নান্নু চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, যশোর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, জেলা যুবমৈত্রী, ছাত্রমৈত্রী, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, সিপিবি, জাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী), অভয়নগরের প্রেমবাগ ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন, দৈনিক প্রতিদিনের কথা, জয়তী সোসাইটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, শিল্পকলা একাডেমি, যশোর ইনস্টিটিউট, উদীচী, পুনশ্চ, বিবর্তন যশোর, সুরধুনী, শেকড়, সপ্তসুর, স্বরগম, তির্যক, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারী, পেনশন আন্দোলন কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা ও কর্মকর্তারা।
মোস্তাফিজুর রহমান কাবুলের ছোট মামা অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান সাবু সাংবাদিকদের জানান, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় আজই কাবুলকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোববার রাত নয়টার কিছু সময় আগে তিনি সেখানে মারা যান। যুবমৈত্রী যশোর জেলা কমিটির সভাপতি অনুপ কুমার পিন্টু জানান, গত মাসের (এপ্রিল) মাঝামাঝি সময়ে মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২২ এপ্রিল যশোরের কুইন্স হসপিটালে এমআরআই করা হয়। তাতে তার মাথায় মাল্টিপল টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। দেরি না করে তিনি ঢাকায় চলে যান। সেখানে মেয়ের বাসায় থেকে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। এতে তার ফুসফুসের ক্যানসারও ধরা পড়ে। অনুপ ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার বরাত দিয়ে জানান, চিকিৎসার অংশ হিসেবে মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে কাবুলের শরীরে পাঁচ দফা রেডিয়েশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেমোথেরাপি দেওয়ার সুযোগ হয়নি। মারা যান তিনি।
এদিকে, কাবুলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন যুব মৈত্রী কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলার নেতা মাসুদুর রহমান, শেখ আলাউদ্দিন, রুহুল আমিন ও হুমায়ুন কবির সেতু। শোক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) যশোর জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড নাজিমউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। কাবুলের অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির তৃতীয় মতালম্বীদের পক্ষ থেকে সমন্বয়কারী মোল্লা লুৎফর রহমান এবং খবির শিকদার।

শেয়ার