বেনাপোলে বিশেষ ব্যবস্থায় রেলকার্গোতে ভারত থেকে হলুদ মরিচ আদা পেঁয়াজ আমদানি শুরু

এম এ রহিম, বেনাপোল॥ মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় স্থলপথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকার দীর্ঘ ৭০দিনপর বিশেষ ব্যবস্থায় বেনাপোল কলিকাতা রেলপথে খাদ্যদ্রব্য জাতীয় কাঁচামাল আমদানি শুরু হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কাস্টমস ও রেলওয়ে বিভাগের পণ্য ছাড় করনের কার্যক্রম চলছে। এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রেলপথে মালামাল আমদানির অনুমতি দেয়।
রোববার ৪২ টি ওয়াগানে ভারত থেকে ২হাজার ৬০০ মেট্রিক টন শুকনা মরিচ, হলুদ ও আদা আমদানি করা হয়, আর সোমবার আসার কথা ৪২ওয়াগান পেঁয়াজ। সূত্রমতে বেনাপোল রেলপথে এই প্রথম খাদ্যদ্রব্য জাতীয় কোন পণ্যের আমদানি। পণ্যের আমদানিকারক বগুড়ার রুবেল এন্টারপ্রাইজ, আর সিঅ্যান্ডএফ এফ এজেন্ট বেনাপোলের রাজিব ট্রেড লংট্রেড।
রেল ষ্টেশন মাষ্টার সাইদুজ্জামান ও আমদনিকারকের প্রতিনিধি বাদশা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে স্থলপথে আমদানি বন্ধ থাকায় তাদের এসব পণ্য আড়াই মাস যাবত ভারতের পেট্রাপোলে বন্দরে আটকা ছিল। অবশেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় রেলপথে এসব পণ্য ঢুকেছে। আমদানিকৃত খাদ্যদ্রব্যের চালান ছাড় করাতে কাস্টমস ও রেলওয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। কাজ সম্পূর্ণ হলে চালানটি ছাড় দেওয়া হবে। ফলে কিছুটা হলেও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবেন ব্যবসায়িরা। উপকৃত হবে দেশ ও জাতি।
বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান ও সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন বেনাপোল সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বাংলাদেশে শিল্প কারখানার জন্য ভারতীয় পণ্য, কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির চাহিদা ক্রমশ: বাড়ছে। আমদানিকারকরা চীন ও ইউরোপের পরিবর্তে ভারত থেকে পণ্য ও কাঁচামাল আনতে আগ্রহী। কিন্তু বিলম্ব ও হয়রানির কারণে তারা বেনাপোল বন্দর থেকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এসময়ে দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প ও বাণিজ্যিক পণ্যের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে বেনাপোলে রেলকার্গো চালু অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ রেলকার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সকল প্রস্তুুতি গ্রহণ করেছে। ট্রাকে বাহিত পণ্য বেনাপোল আসতে যেখানে ৫ থেকে ৭ দিন লাগে,সেখানে রেলকার্গোতে পৌঁছাতে লাগবে মাত্র ৩ ঘণ্টা। বাকি কয়েক ঘণ্টায় শুল্কায়ন ও খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে পণ্য চলে যাবে নির্দিস্ট আমদানিকারকের ঘরে। এ পরিস্থিতিতে পুরোদমে রেলকার্গো চালু হলে আমদানি দ্বিগুণ হবে বলে জানান তারা।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মিরন বলেন,বর্তমানে স্থলপথে আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় কাস্টমস কমিশনারের প্রচেষ্টায় এসব পণ্য রেলপথে আমদানি হচ্ছে।আশা করা যাচ্ছে এভাবে বাণিজ্য চালু থাকবে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন তার জন্য তারা আন্তরিক ভাবে কাজ করছেন।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রকৃতি ভারতীয় পণ্যের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে বেনাপোলে রেলকার্গো চালু এখন সময়ের দাবি। আমদানিকারকের সামনে মুক্তবাজার অর্থনীতি, বিকল্প পণ্য, বিকল্প দেশ উন্মুক্ত। বহু আমাদানিকারক বেনাপোল থেকে চট্রগ্রাম, মোংলা ও অন্যান্য বন্দরে চলে গেছে। ৩৫ হাজার কোটি টাকা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কিছু লোভী ও দুর্বৃত্ত ব্যক্তির খামখেয়ালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে চলতে পারে না। দু’দেশের নীতি নির্ধারকদেরকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মাফিয়ামুক্ত সুষম বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সিন্ডিকেট মুক্ত সহজ সুষম বাণিজ্য নিশ্চিত করতে হলে কমলাপুর আইসিডির মতো শর্তহীন অবাধে সব রকম পণ্য রেলকার্গো ও কন্টেইনারে আমদানির বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

শেয়ার